ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ মুরাদনগর হিন্দু সম্প্রদায়ের
Printed Edition
মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এবং ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে জড়িয়ে মন্দিরে আগুনের ‘মিথ্যা’ প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা উত্তর জেলা ও মুরাদনগর উপজেলার নেতারা বলেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মুরাদনগরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের আশ্রয়স্থল। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই অসচ্ছল হিন্দুদের সহায়তায় নিজস্ব তহবিল গঠন করে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন; অথচ একটি কুচক্রীমহল তার সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক নষ্ট করতে মন্দিরে আগুনের কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর বাড়ির পাশেই একটি মন্দির ও একটি প্রাচীন বটবৃক্ষ রয়েছে। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভক্তরা সেখানে মানত করে কাপড় বেঁধে রাখেন। গত রাতে কে বা কারা ওই গাছের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কৌশলে সেই ভিডিও ধারণ করে। পরে কিছু ফেসবুক পেজ থেকে এটিকে ‘ধর্মমন্ত্রীর বাড়ির পাশের মন্দিরে আগুন’ শিরোনামে প্রচার করা হয়, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ভিডিওতে মুরাদনগর থানা ও মন্ত্রীর ছবি জুড়ে দিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মাঝে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোনো প্রতিমা ভাঙচুর বা মন্দিরে আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। দুলাল দেবনাথ এই ষড়যন্ত্রে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যাপক দীন দয়াল পাল বলেন, ‘আমার বাড়ির মাত্র ১০০ গজ দূরেই ওই বটগাছটি অবস্থিত। সেখানে কোনো প্রতিমা স্থাপন করে পূজা করা হয় না, কেবল মানত করা হয়। হয়তো কোনো নেশাখোর বা যারা ভিডিও করেছে তারাই গভীর রাতে আগুন লাগিয়ে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করেছে। ২৫ বছর ধরে আমরা কায়কোবাদ দাদার ছায়াতলে নিরাপদ আছি। বর্তমান সরকারের আমলে আমরা অত্যন্ত শান্তিতে ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করছি, যা একটি মহলের সহ্য হচ্ছে না।’
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর বলেন, মুরাদনগরে হিন্দু-মুসলিম দীর্ঘকাল ধরে ভ্রাতৃত্বের সাথে বসবাস করছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। তারা সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান এবং মুরাদনগরের সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সহসভাপতি রতন দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার দাসসহ উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা। বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, মায়ের কাছে সন্তান যেমন নিরাপদ, মুরাদনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ও কায়কোবাদ দাদর কাছে ঠিক তেমনি নিরাপদ। কোনো অপশক্তি এই বন্ধন ছিন্ন করতে পারবে না।