আল-উলার মঞ্চ মাতাবেন জিপসি কিংস ও গাই ম্যানুকিয়ান
স্থাপত্যশৈলীর মারায়া কনসার্ট হল এবং প্রকৃতির প্রাচীন সৌন্দর্যের মাঝে জিপসি কিংস ও গাই ম্যানুকিয়ানের এই সম্মিলিত পরিবেশনা সঙ্গীত ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে
Printed Edition
বিনোদন ডেস্ক
সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আল-উলা অঞ্চলের মারায়া কনসার্ট সিরিজে আগামী ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুরের জাদু ছড়াতে আসছেন গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘জিপসি কিংস’। কাতালান রুম্বা, ফ্লেমেনকো, পপ, সালসা এবং রক সঙ্গীতের এক অনন্য সংমিশ্রণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি আল-উলার চোখধাঁধানো মরু-প্রকৃতির মাঝে পারফর্ম করবে। তাদের সাথে একই সন্ধ্যায় মঞ্চে যোগ দেবেন প্রখ্যাত পিয়ানোবাদক ও সুরকার গাই ম্যানুকিয়ান। এই যুগলবন্দি আয়োজনটি আল-উলা মোমেন্টস ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গীতপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সঙ্গীতের জগতে জিপসি কিংস এক অনন্য নাম, যারা বিশ্বব্যাপী ২০ মিলিয়নেরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি করেছে। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত তাদের স্বনামধন্য অ্যালবামটি ছিল একটি বৈশ্বিক বিস্ময়, যা বিভিন্ন দেশে গোল্ড ও প্ল্যাটিনাম তকমা পাওয়ার পাশাপাশি টানা ৪০ সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের টপ চার্টে অবস্থান করেছিল। এই ব্যান্ডটির কালজয়ী সৃষ্টি ‘বামবোলেও’, ‘জবি জবা’ এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যালাড ‘আন আমোর’ এখনো শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। অন্যদিকে, লেবানিজ-আর্মেনীয় সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব গাই ম্যানুকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সুরের সাথে আধুনিক সঙ্গীতের অপূর্ব মেলবন্ধনের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশ্বের আইকনিক সব ভেন্যু যেমন- সিডনি অপেরা হাউজ এবং লন্ডন প্যালাডিয়ামে সফল শো করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। জিপসি কিংসের পাশাপাশি তিনি ফিফটি সেন্ট ও ওয়াইক্লেফ জিনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সাথেও কাজ করেছেন।
এই মহতী আয়োজনটি মূলত আল-উলার ফ্ল্যাগশিপ সাংস্কৃতিক উৎসব ‘উইন্টার অ্যাট টানটোরা’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। মারায়া কনসার্ট সিরিজের ধারাবাহিকতায় এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর লেবানিজ সুপারস্টার ওয়ায়েল কফুরি তার সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের বিমোহিত করেছিলেন। আল-উলার অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর মারায়া কনসার্ট হল এবং প্রকৃতির প্রাচীন সৌন্দর্যের মাঝে জিপসি কিংস ও গাই ম্যানুকিয়ানের এই সম্মিলিত পরিবেশনা সঙ্গীত ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রাচীন ঐতিহ্যের আবহে আধুনিক সুরের এই মিলনমেলা পর্যটন ও সংস্কৃতির প্রসারে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রারই একটি প্রতিফলন।