সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত ভেনিজুয়েলানরা
উদ্বেগ বাড়লেও জনজীবন স্বাভাবিক
Printed Edition
আলজাজিরা
ভেনিজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পর রাজধানী কারাকাসের জনজীবন স্বাভাবিক দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে বাড়ছে উদ্বেগ। গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চালানো অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক আরেক হামলায় আরো চারজন মারা গেলেও ওয়াশিংটন এখনো এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যে, হামলার শিকার নৌকাগুলোতে কোনো মাদক বা চোরাচালানকারী ছিল। এসব অভিযানের কোনো আইনি ভিত্তিও ওয়াশিংটন এখনো পর্যন্ত তুলে ধরেনি।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগেও অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ভেনিজুয়েলার ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র হাজারো সেনাসহ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পাঠিয়েছে। এটি কয়েক দশকের মধ্যে এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন বলে মনে করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় রাজধানীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় থাকলেও দ্বিধা ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ৫২ বছর বয়সী কৃষক ডেভিড ওরোপেজা বলেন, “স্বদেশ মানে স্বদেশ। হামলা হলে আমি লড়াইয়ে যাব।” তিনি অসুস্থ হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল। জানুয়ারিতে মাদুরো সরকার তৃতীয় মেয়াদে শপথ নিলেও নির্বাচনের বিস্তারিত ভোটের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিরোধীরা দাবি করছে, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজই প্রকৃত বিজয়ী। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশও তাকেই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বাধীন পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে জরিপ বলছে, ভেনিজুয়েলার বেশির ভাগ জনগণ বিদেশী চাপ বা সামরিক হস্তক্ষেপ চান না। কারাকাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডাটা এনালিসিসের এক জরিপ অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশ মানুষ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধী এবং ৫৫ শতাংশ বিদেশী সামরিক হামলা প্রত্যাখ্যান করেন। মাত্র ২৩ শতাংশ বিদেশী সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে। বিরোধীদের প্রধান আশঙ্কা হচ্ছে- হামলা হলে বেসামরিক হতাহত, গৃহযুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। তবে হামলার সমর্থনকারীদের মতে, এতে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগোতে পারে।
জরিপ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র দেখিয়েছে, যেখানে দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্ট মনে করেন না। বিপরীতে সরকারের পক্ষে ১৩ শতাংশ এবং বিরোধীপক্ষে ১৯ শতাংশ সমর্থন দেখা গেছে।