৩০ বছর ধরে তাহিরপুরের শুল্ক স্টেশনগুলো উন্নয়ন বঞ্চিত

Printed Edition

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে ভারতীয় ট্রাকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি করা হয় সুনামগঞ্জের তিন শুল্ক স্টেশন দিয়ে। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। কিন্তু শুল্ক স্টেশনগুলোতে মালামাল পরিবহনে আজও নির্মাণ করা হয়নি পাকা সড়ক। শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়কগুলোও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ভারত থেকে আসা কয়লা ও চুনাপাথর ওজন মাপার জন্য নেই ওজন মাপার যন্ত্র।

তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষে বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী তিনটি শুল্ক স্টেশনের অবস্থান। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিনটি শুল্ক বন্দর দিয়ে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানিতে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শুল্ক স্টেশনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের ফলে তাদের নিজেদের উন্নয়ন হলেও শুল্ক স্টেশনের উন্নয়ন করেননি বলে অভিযোগ বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ীদের।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করেন ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এ তিনটি শুল্ক স্টেশনের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন করলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিকতার উন্নয়ন ঘটবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনটি শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম চালু হয়। এরপর শুল্ক স্টেশন থেকে সরকারকে বছরে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ কোটি টাকা রাজস্ব দেয়া হলেও ৩০ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. শামছুদ্দিন, হাজী ফরিদ উদ্দিন বলেন, আবাসনের কোনো যোগ সুবিধা নেই। রাস্তার অবস্থা খুবেই খারাপ থাকায় পণ্য পরিবহনে অধিক ব্যয় হয়। আ’লীগ নেতারা বিএনপি-জামায়াতের ব্যবসায়ীদের থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়ি গাড়ির মালিক হয়েছেন।

তাহিরপুর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম জানিয়েছেন, সরকার বছরে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব নেয় কিন্তু শুল্ক স্টেশনের উন্নয়নে কোনো টাকা ব্যয় করে না। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে রাস্তাঘাটের মেরামত করেন। তাহিরপুর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি খসরুল আলম তিন শুল্ক স্টেশনে আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট শুল্ক স্টেশন এলাকার উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য সরকারে কাছে দাবি করে তিনি বলেন, এখান থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব সরকার পায় তার অন্তত ২০ শতাংশ উন্নয়নে ব্যবহার করলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ পাবেন।