বার্লিন বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য ‘মর্যাদাপূর্ণ শান্তি’র নিশ্চয়তা চান জেলেনস্কি
Printed Edition
রয়টার্স
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জার্মানির রাজধানী বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে বৈঠকে অংশ নিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে একটি ‘মর্যাদাপূর্ণ শান্তি’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণ এমন একটি শান্তি চায় যা শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভবিষ্যতে রাশিয়ার পুনরায় হামলার সম্ভাবনা রোধ করবে।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ ইউরোপীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটানো। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন কোনো ‘অপমানজনক শান্তি’ মেনে নেবে না। বরং এমন সমাধান চাই যা আন্তর্জাতিক আইন ও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বেলারুশ থেকে ১১৪ জন বন্দী মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিকও রয়েছেন। এটি শান্তি আলোচনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, কিছু প্রস্তাব রাশিয়ার দাবির প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল হতে পারে। এ কারণে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তি অবশ্যই মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।
বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও অংশ নেন। তারা ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপীয় নেতারা মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু ইউক্রেন নয়, গোটা মহাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলেনস্কির বক্তব্য ইউক্রেনের জনগণের মনোভাব প্রতিফলিত করে। তারা চান, যুদ্ধের অবসান ঘটুক, তবে এমনভাবে যাতে দেশটির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অক্ষুণœ থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও একইভাবে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজছে, যদিও রাশিয়ার অবস্থান এখনো কঠোর। বার্লিনের এই বৈঠক ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর। জেলেনস্কির দাবি স্পষ্ট- শান্তি চাই, তবে তা মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।