জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিতে বাহিনীগুলোকে ইসির নির্দেশনা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গমন, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা, গুজব ও অপতথ্যের প্রচার রোধ, প্রচারণায় আচরণবিধি পরিপালন নিশ্চিত করাসহ নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র বুধবার জারি করেছে কমিশন।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপর্যুক্ত নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করার পূর্বশর্ত হলো সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য মোতায়েন রয়েছে এবং নির্বাচনকালেও এই মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। সরকার কর্তৃক সশস্ত্র বাহিনীকে প্রদত্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থার প্রধান বা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কমিশনের সামনে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে কমিশন এ দিকনির্দেশনাগুলো প্রদান করেছে।
পরিপত্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাখা; সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী যেন নির্বিঘেœ এবং বিধি অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন তা নিশ্চিত করা; ভোটাররা যেন নিঃশঙ্কচিত্তে ও স্বস্তির সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টি করা।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নির্বাচনী সামগ্রী ও ব্যালট (পোস্টাল ব্যালটসহ) পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দেয়া; গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার রোধ এবং এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পরিপত্রে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও গোত্র নির্বিশেষে সব নাগরিক, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পঙ্গু, আহত, বয়স্ক, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চলাচল ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সহনীয় সুযোগ ও উপযোগী পরিবেশ তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সার্ভেলেন্স কমিটি, মনিটরিং কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত সব কমিটির কার্যক্রমে সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় অনুশাসন বাস্তবায়ন, গণভোট ও নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যথাযথ নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনী সামগ্রী ও ব্যালট গ্রহণের পর থেকে ফলাফল রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা পর্যন্ত কেন্দ্রভিত্তিক নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।