ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি : তারেক রহমান

Printed Edition
frirst-3
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেছেন, সামনে রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে এবং দল ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে পারে। তিনি দলের ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষের গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটেই এই কড়া বার্তা দেন। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সামগ্রিক বিবেচনায় নিয়ে করা হয়েছে। কোনো এলাকায় পছন্দের ব্যক্তি মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন এবং যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তার সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ না-ও থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক।

তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, নেতাকর্মীদের দায়িত্ব কোনো ব্যক্তির জন্য নয়; বরং ধানের শীষ, দল এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার পক্ষে কাজ করা। তার ভাষায়, এখানে ব্যক্তি নয়, দল ও প্রতীকই মুখ্য বিষয়।

তারেক রহমান আরো বলেন, সামনের সময় অত্যন্ত কঠিন এবং ঐক্যবদ্ধ না হলে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে। আন্দোলনের সময় যেভাবে মানুষকে বোঝানো হয়েছে, ঠিক সেভাবেই দেশ গড়ার পরিকল্পনার বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এটিকে দলের আজকের অঙ্গীকার হিসেবে ধরে নিতে হবে। উপস্থিত ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্ষম হবেন।

ভাষণের একপর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। খাল খননের মাধ্যমে এক দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য দিকে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তার মতে, সেচসুবিধা বাড়ায় যেখানে আগে একটি মাত্র ফসল হতো, সেখানে দুই ও তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়।

তারেক রহমান আরো বলেন, একসময় বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের কঠিন সময় পার করলেও জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল এবং সীমিত পরিসরে হলেও খাদ্য রফতানিতে সক্ষম হয়েছিল।

তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে বহু ষড়যন্ত্র চলেছে, এখনো চলছে। এ সময় তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে তা সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। কারণ সেখানে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। একমাত্র গণতন্ত্রই সমাজে-দেশে এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে দেশের মানুষ। মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে এই দেশের গৃহবধূ, ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সিএনজি চালক, বাসের হেল্পার, ছাত্র, জনতা, মাদরাসার ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল-কলেজের ছাত্ররা। এমনকি ছোট ছোট শিশুরা। ৬৩ জন শিশু মারা গেছে সেই আন্দোলনে। সরকারের জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জবাবদিহিতা থাকলেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটতে শুরু হবে।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে একপক্ষ বলেছে, ‘আমি ভালো আর সব খারাপ’, একজন ভালো আর বাকি সবাই খারাপ। দুঃখজনক হলো গণ-অভ্যুত্থানের পরেও সেটির পরিবর্তন হয়নি। এটির পরিবর্তন হওয়া বাঞ্ছনীয়। এটির পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বহুদলীয় গণতন্ত্রে মানুষ বিভিন্ন মতামত দেবে। মতামত দেয়ার অধিকার তার আছে। বক্তব্য রাখার অধিকার তার আছে। কিন্তু অবশ্যই ‘একজন ভালো আর বাকি সবাই খারাপ’ এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই ধারণার পরিবর্তন হতে হবে। এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।