হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ ২ পুলিশসহ আহত ৫০

Printed Edition

হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির অফিস ভাঙচুর এবং দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে।

গতকাল বেলা ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এ সময় তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করেন। পরে প্রকল্পে মানুষের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন মাসউদ। ফেরার পথে প্রকল্প বাজারে বিএনপির লোকজনের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে এনসিপির কয়েকজন আহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপি সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ রাস্তায় অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে হয়েছে। এক পর্যায়ে এমপি হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। পরে সন্ধ্যার আগে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সংঘর্ষে হাতিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপপরিদর্শক শহীদুল ইসলাম আহত হন। এ ছাড়াও বিএনপির কর্মী আকবর, হেলাল, রিয়াদ, জাহের, হক সাহেব, লুবনা আক্তারসহ অন্তত ৩০ জন এবং এনসিপির নেতা রিপন, জাকের, শাখাওয়াতসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ সময় এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল মাঝি নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

অন্য দিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রকল্পে মাসউদ উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। তার এমন বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় হান্নানের লোকজন স্থানীয়দের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে গিয়ে সেটি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে হামলার শিকার হন হেলাল নামের আমাদের এক কর্মী। পরে হান্নানের লোকজনের দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীসহ অন্তত ৩০ জনকে আহত করে।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও এসআই শহীদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।