হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের চার্জ গঠনের আদেশ আজ
সাবেক এমপি গোলাপ এবং আইজিপি শহীদুল-আসাদুজ্জামানের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট
Printed Edition
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ গতকাল সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের আমলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কার্যদিবস পার হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম গণ-অভ্যুত্থানে ছয়জনকে হত্যার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দেয়া হবে আজ মঙ্গলবার। একই আদালতে মাদারীপুর গণহত্যার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল পৃথক শুনানিতে আদেশের এই দিনগুলো ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
হাছান-নওফেলের মামলা : গত ২২ জুন প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড (প্রাথমিক সত্যতা) বিবেচনা করে ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন। এরপর আসামিপক্ষের ডিসচার্জ (অব্যাহতি) আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন।
গতকাল টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, এই মামলায় কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো আইনি উপাদান নেই এবং মামলার তদন্তও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। এর আগে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো:আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি শেষ করেন।
গতকাল শুনানি চলাকালে মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী ছাড়া বাকি চারজন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো: ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য দিকে ড. হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর ও নুরুল আজিম রনিসহ বাকি ১৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশনের দাখিল করা ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি ৭ এপ্রিল আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগপত্রের প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো: ফারুককে হত্যা; দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় এবং তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক ছাত্র-জনতাকে মারণাস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করার অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। গতকাল প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ ও জহিরুল আমিন।
সাবেক এমপি গোলাপের মামলা : মাদারীপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। আদালতে শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তদন্ত কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করতে আরো দুই মাস সময় প্রার্থনা করেন। গতকাল সকালে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক এই আইনপ্রণেতাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে গ্রেফতারের পর, গত ২৭ এপ্রিল এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
সাবেক আইজিপি শহীদুল ও আসাদুজ্জামানের মামলা : ২০১৫ সালে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুজ্জামান জনিকে হেফাজতে হত্যার (ক্রসফায়ার) ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরো দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল সোমবার সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামলার দুই প্রধান আসামি সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একাধিক মামলায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ মামলার তদন্তের স্বার্থে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে জনি ও তার সহযোগী মহিউদ্দিনকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই দিন রাতেই খিলগাঁও খেলার মাঠে জনিকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।