ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সমাবেশ

নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ : সমিয়া গোলাম পরওয়ার

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের গণআকাক্সক্ষা পূরণের একটি ধাপে আমরা উপনীত হচ্ছি। এরপরের বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হওয়া। নির্বাচন কমিশন, সরকার, সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ, সব স্টেক হোল্ডারকে ঐক্যবদ্ধভাবে সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি গতকাল বুধবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলাধীন শরাফপুর ইউনিয়নের মাদারতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সজিব রায়ের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন ও আহত শিমুল মণ্ডল, তনয় মণ্ডল ও সাগর মণ্ডলের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে আর্থিক সহায়তা দেন এবং সে এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

গণসংযোগকালে জামায়াত নেতা বলেন, একটা দল নিজেদের বড় এবং ভোটের আগেই ক্ষমতায় চলে গেছি মনে করে। আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় গিয়ে নানা আশঙ্কার কথা শুনতে পাচ্ছি। তারা এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে দেবে না। ভোট দিতে বাধা দেবে। ব্যালটে বাইরে এনে সিল মেরে নেবে। তিনি বলেন, চব্বিশের আগস্টেই আমরা সেই বাংলাদেশকে বিদায় দিয়েছি। সেই বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না। ১৪, ১৮, ২৪-এ জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আমরা এখন জনগণকে সচেতন করছি। আমরা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট গ্রহণের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে পক্ষপাতহীন হতে হবে।

এর আগে ফুলতলা উপজেলাধীন শিরোমণির ডাকাতিয়া পশ্চিম পাড়ায় অনুষ্ঠিত ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ গোত্রের মানুষের কাছে সবচেয়ে আস্থার দলে পরিণত হয়েছে। জামায়াত ঘোষিত ন্যায় ও ইনসাফের দেশ গড়তে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। আর এই ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা কেউ কেউ মেনে নিতে পারছে না। কোথাও কোথাও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এই হুমকি-ধমকির মানে হলো কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেও কেউ কেউ আবার সেই শাসন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের অপচেষ্টা আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে রুখে দেবে। বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে একটি দল আপনাদের শুধু তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ধরত। তারা আপনাদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে আবার আপনাদের বাড়িঘর দখল, ঘের দখলসহ বিভিন্ন ধরনের জুলুম নির্যাতন চালিয়েছিল। বর্তমানে আরেকটি দল পুরনো ধাঁচে আপনাদের ভাবতে শুরু করেছে। আগস্ট পরবর্তী সময়ে আপনাদের ওপর বিভিন্ন প্রকার জুলুম নির্যাতন তারা করছে। কিন্তু আপনারা কি বলতে পারবেন দেশ স্বাধীনের পর থেকে জামায়াতের কেউ আপনাদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, নিষ্পেশন চালিয়েছে। বরং যখনই সুযোগ পেয়েছে জামায়াত আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে সব হুমকি উপেক্ষা করে আপনারা পাড়া মহল্লায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইবেন। তাহলে জামায়াত ঘোষিত নতুন বাংলাদেশে আপনারা সবচেয়ে বেশি ভালো থাকতে পারবেন, সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকতে পারবেন যেমনটি ছিল খোলাফায়ে রাশেদার যুগে অমুসলিমরা।

চিত্তরঞ্জন গাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা। মানষ রায়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মনিলাল মণ্ডল, কালীপদ গাইন, নিতাই চন্দ্র মণ্ডল, প্রণব রায়, খোকন চন্দ্র রায় প্রমুখ।

দুপুরেগ তিনি আসাননগরে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে বক্তৃতা দেন। ওয়ার্ড সেক্রেটারি আসাবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। এরপর তিনি সেনপাড়া মাদরাসায় মহিলা সমাবেশে এবং বিকেলে সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি বাজারে অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সন্ধ্যায় গুটুদিয়া ইউনিয়নের কোমলপুর স্কুল মাঠে ভোটার সমাবেশ ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশীদ আল আজাদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ফরিদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, খুলনা আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. মুফতি আব্দুর রহীম, ডুমুরিয়া সদর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের, আবু সুফিয়ান, নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।