পায়রার চরে বেড়েছে তরমুজ চাষ মাঠে মাঠে ছোট-বড় তরমুজ
Printed Edition
উত্তম গোলদার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। আগের বছরগুলোতে ভালো লাভ হওয়ায় এবার অধিক জমিতে তরমুজের আবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে পায়রা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন চর ও পতিত জমিতে সেচ সুবিধা থাকায় অনাবাদি অনেক জমিও তরমুজ চাষের আওতায় চলে এসেছে। মাঠে মাঠে এখন ছোট-বড় নানা আকারের তরমুজে ভরে উঠছে পায়রার চরাঞ্চল।
কৃষকরা জানান, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া জমি লিজের মূল্য বেশি হওয়ায় অনেকের ব্যয় আরো বাড়ছে। তবু লাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা এবং জেলার অন্যান্য এলাকা থেকে এসে কৃষকরা জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। বেসরকারি হিসেবে আরো কিছু জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই তরমুজ চাষের মৌসুম শুরু হয়। পায়রা নদীর মির্জাগঞ্জ চর, গোলখালীর চর, পূর্ব সুবিদখালী দত্তের চর, রামপুর, মজিদবাড়িয়া ও কিসমতপুর এলাকায় এবার ব্যাপক হারে তরমুজের আবাদ হয়েছে। চরে ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে শুরু হয় তরমুজের চাষ। এখন সার প্রয়োগ, সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছেন।
পূর্ব সুবিদখালী দত্তের চর এলাকার তরমুজ চাষি মো: আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ১৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা। ক্ষেতে প্রায় ২০ হাজার তরমুজ গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছেই ফল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের আগেই বাজারে তরমুজ তুলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
কৃষকদের মতে, আমন ধান চাষ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেখানে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস, সেখানে তরমুজ চাষে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার মাসেই ফলন পাওয়া যায়। সময় কম ও লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। একই চরে হান্নার মাস্টার ১৭ একর, রফিক হোসেন ৮ একর, মতিউর রহমান ৮ একর ও আলামিন হোসেন ১২ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন বলে তারা জানান।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছর বাম্পার ফলন এবং আশানুরূপ দাম পাওয়ার কারণে এবার কৃষকেরা বেশি করে তরমুজ চাষ করছেন। চরাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছরও মির্জাগঞ্জে তরমুজের ভালো ফলন হবে।