লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মূল লড়াই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে
Printed Edition
মিজানুর রহমান মানিক কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
মেঘনা নদী উপকূলীয় জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ সংসদীয় আসন বরাবরই ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে পরিচিত। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন স্বাধীনতার পর থেকে সরকার গঠনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অতীতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব:) আব্দুল মান্নান, সাবেক মন্ত্রী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানসহ একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিক এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের মতো এবারো কমলনগর উপজেলার ভোটাররা জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। কারণ অতীতের বেশির ভাগ এমপির বাড়ি রামগতিতে হওয়ায় কমলনগরের ভোট বরাবরই নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন চারজন, বিএনপির প্রার্থী সাবেক দুইবারের এমপি এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা) এবং জেএসডির প্রার্থী তানিয়া রব (তারা)। মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
প্রচার শুরুর পর থেকেই প্রার্থীদের নজর এখন আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটারদের দিকেও। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের তৎপরতা কম থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের সমর্থন পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিশেষ করে বিএনপির নিজান ও জেএসডির তানিয়া রব আওয়ামী সমর্থকদের ভোট টানতে সক্রিয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে জোট না থাকায় ইসলামী ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে কমলনগরে জামায়াতের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে বলে দাবি করছেন দলটির নেতারা। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন ভোটারদের মতে, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও আগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিএনপির জন্য ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ কেন্দ্রভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নির্বাচনী লড়াই দিন দিন তীব্র হচ্ছে। চার প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা থাকলেও বাস্তবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এখন দেখার বিষয়, কমলনগরের ভোটারদের রায় এবং আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে মোড় নেয়।