পায়রাবন্দের স্মৃতিকেন্দ্রের সাথে বেরোবির সমঝোতা চুক্তি

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

  • দুই যুগ পর অবারিত হলো রোকেয়া চর্চা ও গবেষণার দ্বার
  • বিশ্বমানের বিশেষায়িত আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগ

অবশেষে দীর্ঘ দুই যুগের অচলাবস্থা কেটে রংপুরের পায়রাবন্দের রোকেয়া স্মতিকেন্দ্রটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে অবকাঠামো এবং অ্যাকাডেমিকভাবে একীভূত হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাথে। এরমধ্য দিয়ে রোকেয়া চর্চা ও গবেষণার নয়া দ্বার উন্মোচন হওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। স্মৃতিকেন্দ্রটিতে একটি বিশ্বমানের রোকেয়া আর্কাইভ প্রতিষ্ঠারও ঘোষণা দিয়েছে বাংলা একাডেমি।

গতকাল রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের ফাঁকে দুপুরে ঐতিহাসিক এই সমঝোতা স্মারক হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট রুমে। এর মাধ্যমে বাংলা একাডেমি পরিচালিত পায়রাবন্দের স্মৃতি কেন্দ্রটির সাথে বেরোবি অবকাঠামো এবং একাডেমিকভাবে একীভূত হলো। সমঝোতা স্মারকে ভিসি ড. এম শওকাত আলী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম সই করেন। এ সময় বাংলা একাডেমির সচিব, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ইলিয়াস প্রামানিক, রেজিস্টার ড. হারুন অর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে উভয়পক্ষ রোকেয়া চর্চা, স্মৃতি রক্ষা ও গবেষণায় যেকোনো উদ্যোগ নেয়াসহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম জানান, এর মাধ্যমে রোকেয়ার জন্মসূত্রে স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল যা রোকেয়ার সাথে সম্পৃক্ত এবং তার নামানুসারে স্মৃতিকেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথতায় রোকেয়া চর্চা এবং অনুসঙ্গীয় নানান গবেষণায় আমরা আশা করছি ভালো ফল আগামী দিনগুলোতে দেখতে পাবো। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আমরা আরো অনেক কিছু করার অনুপ্রেরণাবোধ করব, তখন আমরা বেরোবিকে সাথে পাবো। বেরোবির দিক থেকে নানান ধরনের উদ্যোগের আকাক্সক্ষা অথবা প্রেরণা অনুভূত হবে। তখন তারা বাংলা একাডেমির এই কেন্দ্রকে পাশে পাবে।

বেরোবি ভিসি ড. এম শওকাত আলী জানান, সমঝোতার মাধ্যমে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি উত্তরবঙ্গে রোকেয়া চর্চা গবেষণা এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় একটা হাব তৈরি হলো। রোকেয়ার দর্শনটা শুধু ৯ ডিসেম্বরেই নয়, সেখানে আমরা সব সময় করতে পারব। তাদের এবং আমাদের অবকাঠামো, লোকবল সবকিছু দিয়েই আমাদের এই কাজটা হবে। এর মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ওখানে গিয়ে তার ভিটেমাটিতে বসে তাকে ধারণ করে গবেষণা ও চর্চা করতে পারবে। এটা শুধু যেন কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে যাতে বাস্তবে রূপ দিতে পারি সেই বিষয়টাও আমরা সবাই অবজার্ভ করব।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুন ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্মাণ শেষে ২০০১ সালের ১ জুলাই কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পর থেকেই নানাকারণে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। এখন বাংলা একাডেমি এটি দেখভাল করছে।

এর আগে বেরোবি ক্যাম্পাসে দিনটিকে ঘিরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন শিক্ষক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও রোকেয়া অনুরাগীরা। পরে স্বাধীনতা স্মারকে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও রোকেয়া পাঠ স্মারকগ্রন্থের উম্মোচন। ইউজিসি সদস্য ড. মাছুদা হাবিব, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর হোসেন উদ্দিন শেখরসহ শিক্ষাবিদরা আলোচনায় অংশ নেন। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটিকে ঘিরে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বাংলা একাডেমি, রংপুরের ডিসিহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। এ সময় ডিসির কাছে কলকাতা থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে আনার বিষয়ে তথ্য জানতে চান অনুরাগীরা।

এ বিষয়ে ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, দেহাবশেষ কলকাতা থেকে আনার একটা দাবির কথা শুনছি। আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে কাগজপত্র দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্য দিকে স্মৃতিকেন্দ্রটিতে বিশ্বমানের আর্কাইভ হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি জানান, রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটিকে আমরা পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা চুক্তি একটা বড় দিক। এ ছাড়াও কেন্দ্রের পাঠাগারটিকে ঘিরে একটি বিশেষায়িত আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে এখানে দেশী বিদেশী গবেষক এবং ব্যক্তিকে আসতে বাধ্য করবে। এই আর্কাইভ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোকে প্রাকটিক্যালি উপকৃত করবে। এ ধরনের নানা উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রটিকে সজিব এবং সচল করার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ দিকে রোকেয়া দিবস ঘিরে পায়রাবন্দে স্মারক বক্তৃতাসহ তিন দিনের নানা আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আছে মেলাও।