সিরিয়ায় আইএস হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত

Printed Edition

রয়টার্স

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্যদের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন স্থানীয় দোভাষী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, শনিবার রাতে দেইর আল-জোর প্রদেশে টহলরত সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, আইএস সদস্যরা হঠাৎ করে বিস্ফোরক ও গুলি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। তাদের সাথে থাকা একজন সিরীয় দোভাষীও প্রাণ হারান। আরো কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের দ্রুত ইরাক সীমান্তবর্তী একটি সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি নিহত সেনাদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং বলেন, এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে আইএস এখনো অঞ্চলে সক্রিয় ও বিপজ্জনক।

২০১৯ সালে আইএসের তথাকথিত ‘খিলাফত’ ভেঙে দেয়ার পরও সিরিয়ার মরুভূমি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের ছোট ছোট সেল সক্রিয় রয়েছে। মার্কিন সেনারা স্থানীয় কুর্দি বাহিনীকে সহযোগিতা করে আসছে, যাতে আইএস পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইএস হামলা বেড়েছে, যা সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সিরিয়ায় আইএসের এ হামলা আবারো প্রমাণ করল যে, সংগঠনটি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষীর মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি হলেও দেশটি জানিয়েছে, তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের হামলা সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে।