জায়নবাদ মানবতার হুমকি, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপানো হয়েছে : পাকিস্তান
Printed Edition
আলজাজিরা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, জায়নবাদ (উগ্র ইহুদি) জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি এবং মানবতার জন্য হুমকি। তিনি আরো বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা পোস্টে খাজা আসিফ জায়নবাদকে মুসলিম বিশ্বের অস্থিতিশীলতার চালিকাশক্তি এবং ‘মানবতার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্বের ওপর যে প্রতিটি বিপর্যয় নেমে এসেছে, যে প্রতিটি যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, সেসবের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শ ও রাষ্ট্রের হাত রয়েছে।’ একই সাথে তিনি বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
খাজা আসিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সঙ্ঘাত ইরানের ওপর ‘চাপিয়ে দেয়া’ হয়েছে।
করাচির বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় মার্কিন মেরিন সদস্যরা
এর আগে, ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর, রোববার পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেশজুড়ে ২০ জন নিহত এবং আরো কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
নিহতদের মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে অন্তত আটজন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে দুইজন রয়েছেন। পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভগুলো বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আর তাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান মূলত সুন্নি প্রধান হলেও, মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি শিয়া মুসলিম যারা সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।
পরে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করে যে, পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ফলেই এই প্রাণহানি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া ওই সময় মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল কিনা, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসরদাস হেমমানি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কর্মীরা গুলি চালিয়েছেন, তবে তারা কোন বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বেসরকারি ঠিকাদার ও স্থানীয় বাহিনী পরিচালনা করে থাকে।
বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরাইল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিয়েছে। রয়টার্সের সাংবাদিকরা গুলির শব্দ শুনেছেন এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের দৃশ্য দেখেছেন। করাচি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলি কনস্যুলেটের ভেতর থেকেই চালানো হয়েছিল। এ ঘটনায় মার্কিন মেরিন কর্তৃপক্ষ প্রশ্নগুলো সামরিক বাহিনীর কাছে পাঠিয়েছে, যারা আবার তা স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র দফতর কোনো মন্তব্য করেনি। দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা করাচি ও লাহোরে আরো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। করাচি কনস্যুলেটের আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে লাহোর ও ইসলামাবাদের মার্কিন মিশনগুলোতেও।