ব্রিফিংয়ে ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করলে ছাড় নয়

Printed Edition
back-3
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। তিনি জানান, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর মোট এক লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। অতিদ্রুত যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে, ম্যাসেজ ক্লিয়ার। কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেয়া হবে না। যা করা দরকার ইসির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করলে ছাড় দেয়া হবে না।

গতকাল রোববার নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর বৈঠকের পর এই মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ও আচরণবিধি প্রতিপালনসহ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। দুপুর আড়াইটার পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী প্রধানের সাথে দুপুর ১২টায় বৈঠক করে ইসি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান কমিশনার সানাউল্লাহ।

আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ চক্র শহর এলাকায় টার্গেটেড হামলা করছে। এ ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলার ঘটনাকে ভ্যান্ডালিজম হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এমন বিষয়কে বাধা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথবাহিনীর অভিযান চালু হবে। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিন বাহিনী প্রধানের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর মোট এক লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। যার এক-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে মাঠে আছে, বাকিদের দ্রুত মোতায়েন হবে। সেই সাথে জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সেলের মাধ্যমে বাহিনীগুলো ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এক সাথে কাজ করবেন। কমান্ড ও কন্ট্রোল নিয়ে টেকনিক্যাল আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, আমি ওখানে মিনিট বাই মিনিট কি ঘটেছে, কার সাথে কি কনভারসেশন হয়েছে এটা সম্বন্ধে আমি অবগত নই। আর এই ব্যাপারটাকে আমাদের ইনডাইরেক্ট আলোচনায় এনেছি। কারণ এটা একটা ভ্যান্ডালিজম। এটাও আমাদের নির্বাচনী পরিবেশের উপরে প্রভাব ফেলছে। ওখানে ঘটনাটা কিন্তু নির্বাচনের সাথে সরাসরিভাবে রিলেটেড না। তদুপুরি আমরা ডিসকাশনে নিয়ে এসেছি। কারণ এটার সাথে আমাদের স্বার্থ জড়িত আছে। সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি এদের সাথে রিলেটেড।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন এগুলো নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সাথে ডেফিনেটলি নির্বাচনের পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ তফসিল ঘোষণার পরে যাই হোক না কেন সাধারণ আইনশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটলেও সেটার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব তো নির্বাচনের উপর পড়ে, পরিবেশের উপরে পড়ে। অন্তত পক্ষে আপনারা তো একটা বড় অংশ। আমাদের অংশীজন এবং আমাদের পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, কিভাবে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং এই বিষয়গুলো আমরা জানতে চাই। তিনি বলেন, আমরা যেটা অবহিত হয়েছি একটা জাতীয় শোকের সময় যখন সবাই আমরা শোকে মুহ্যমান এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মানুষজন জড় হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন এর বা ছায়ায় এইটাকে ব্যবহার করে কিছু লোক এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওভারপাওয়ার করে এই সুযোগ আর দেয়া হবে না মেসেজ ভেরি ক্লিয়ার।