শাকসু নির্বাচন ২০২৬
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে দায়িত্ব পালন করব
Printed Edition
শাবি প্রতিনিধি
শাকসু নির্বাচনে এককভাবে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মামুনুর রশীদ শুভ। তিনি জুলাই আন্দোলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিলেন এবং আন্দোলনে আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘ভয়েস ফর জাস্টিস, সাস্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে কেন ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা?
মামুনুর রশীদ শুভ : আমি জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত সংগ্রামের মধ্যেই আছি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি দেশের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষের কতটা অভাব। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি ‘ভয়েস ফর জাস্টিস, সাস্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছি। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, আগে কাজ করে তার পর কথা বলায় বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলাতে হলে শুধু সুন্দর বক্তব্য যথেষ্ট নয় ধারাবাহিক ও বাস্তব কাজ প্রয়োজন। শিক্ষা, গবেষণা, পরিবেশ ও আবাসন প্রতিটি খাতে থিমভিত্তিক কাজ দরকার, আর সেই কাজটিই আমি করতে চাই।
আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সাথে যুক্ত নই। আমি কেবল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করব। কোনো রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক ভয় কিংবা ক্ষমতার হুমকি আমাকে থামাতে পারবে না। কারণ আমি একবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি, মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত শক্তিশালী হোক কিংবা সরকার যেই থাকুক শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যত চ্যালেঞ্জই আসুক, আমি শিক্ষার্থীদের পাশেই দাঁড়াব। আমাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে একজন শুভ হয়তো হারিয়ে যাবে, কিন্তু ভয়েস ফর জাস্টিস থেমে যাবে না। এ লড়াই চলতেই থাকবে। আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, আর এই স্বতন্ত্রতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার পাশে আছেন অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী, যারা একজন নির্ভীক প্রতিনিধি চান। শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন আমি তাদের হয়ে কথা বলতে পারব, তাহলে তারা আমাকে ভোট দিক।
নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের প্রধান সমস্যাগুলো কী কী?
মামুনুর রশীদ শুভ : বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শিক্ষা, তবে এর সাথে সরাসরি জড়িত নিরাপত্তা, আবাসন, পরিবেশ, গবেষণা ও পরিবহন। আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে জরুরি সমস্যা হলো নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা। অনেক ছাত্রী জানিয়েছেন, সিলেট শহরে সিএনজিতে যাতায়াতের সময় তারা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন। এর পরই আসে আবাসন সঙ্কট। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ব্যবস্থা নেই। ফলে অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। মেয়েদের সাব-হলগুলোতে মাসিক প্রায় দুই হাজার টাকা নেয়া হলেও সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নেই।
শিক্ষা ও গবেষণায় বড় পরিবর্তন দরকার। আমাদের পড়াশোনা অত্যধিক তাত্ত্বিক। বাস্তব প্রয়োগ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা বাড়াতে হবে। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য ‘রিসার্চ স্কলার অ্যাওয়ার্ড’ চালু করা জরুরি। খাদ্য ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবহন ব্যবস্থায় রয়েছে বড় অনিয়ম। সন্ধ্যার পর নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতি ঘণ্টায় বাস সার্ভিস চালু করা, রাত পর্যন্ত চলাচল এবং প্রতিটি হলে সরাসরি পরিবহন পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
নয়া দিগন্ত : এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
মামুনুর রশীদ শুভ : আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন নই। আমার একমাত্র শক্তি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টর, প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট দফতরে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা হবে। নির্বাচিত হলে আমি এই বৈষম্য দূর করব এবং হল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেবো।
শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ এলে কোন খাতে, কতটুকু ব্যয় হচ্ছে এ তথ্য জনসমক্ষে আনা হবে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
মামুনুর রশীদ শুভ : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমার একটাই কথাÑ যোগ্য, ত্যাগী ও নির্ভীক প্রতিনিধিকে মূল্যায়ন করুন। যারা অতীতে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, তাদের বেছে নিন। যারা সামনে এক কথা আর পেছনে আরেক কথা বলে, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। আপনারা যদি একজন সৎ ও সাহসী প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, সেই প্রতিনিধি সবসময় আপনাদের পাশেই থাকবে।