দেশের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ১৬ ঘণ্টা অফিসিয়াল কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি এই নজির স্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীর এমন পরিশ্রমের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য দিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক ৯টায় সচিবালয়ে দিনের কাজ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ দফতরে এসেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যালোচনা, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিটি কাজে তার তীক্ষè মনোযোগ ও দৃঢ়তা লক্ষ্য করা গেছে। সময় যেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব পালনের এক অবিরাম ধারা, যেখানে ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারেনি তাকে। নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে নিতে বিকেল গড়িয়ে গেলেও তার কর্মস্পৃহা ছিল মøানহীন।
সচিবালয়ের কাজ শেষ করে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে রাত ৮টা পর্যন্ত তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
সংসদ অধিবেশন শেষেও প্রধানমন্ত্রীর দিনের কর্মসূচি শেষ হয়নি। রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শুরু হয় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিদ্যমান সঙ্কট মোকাবেলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সেখানে দীর্ঘ আলোচনা চলে। অবশেষে রাত ১১টা ৩০ মিনিটের পর সেই বৈঠক শেষ হয়। এরপরও প্রধানমন্ত্রী আবার সংসদ সচিবালয়ের নিজ দফতরে ফিরে দাফতরিক কাজে বসেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টানা অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা অফিস করা প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত রুটিন বলা যায়। তবে বৃহস্পতিবার তা প্রায় ১৬ ঘণ্টা ছুয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি দেশবাসীর জন্য একটি বিশেষ বার্তা। যখন অনেকেই দিনের শেষে বিশ্রামে যান, তখনো একজন নেতা জেগে থাকেন দেশের তরে, আগামীর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।
এ দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি, দায়িত্বের প্রতি এক অটল অঙ্গীকারের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর এই নিরলস পরিশ্রম যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয় নেতৃত্ব শুধু ক্ষমতার আসনে বসা নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তে জাতির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়ার নামই প্রকৃত নেতৃত্ব।