লঙ্কানদের হারিয়ে সাত বছর পর টাইগারদের স্বপ্নপূরণ
Printed Edition
ইতিহাসে কেবল একবারই পিছিয়ে পড়ার পর ২০১৮ সালের আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা। সাত বছর পর গতকাল শ্রীলঙ্কার মাটিতে সেই সুখস্মৃতি ফেরানোর হাতছানি ছিল টাইগারদের সামনে। অবশেষে ৮ উইকেটের জয়ে হলো স্বপ্নপূরণ। বাংলাদেশ সিরিজ জিতে নিলো ২-১-এ।
গতকাল চারিথ আসালাঙ্কা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ম্যাচ সেরা শেখ মাহেদীর ঘূর্ণিতে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১৩২ রান করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। টোটাল রান হতে পারতো আরো কম, যদি না শরিফুল শেষ ওভারে ২২ রান না দিতেন। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের অপ্রতিরোধ্য ৭৩* রান, অধিনায়ক লিটন দাসের বীরোচিত ৩২ এবং তৌহিদ হৃদয়ের হার না মানা ২৭ রানে ২১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা। ফলে ৮ উইকেটের জয়ে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।
এ নিয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলেছে ২২টি। যার মধ্যে মাত্র সাতটিতে জিতেছে, হেরেছে ১৪টিতে। ড্র হয়েছে বাকিটি। এই ছয়টি সিরিজ জয়ের তিনটিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডকে ও ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। অন্য তিনটিতে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। সাত বছর পর এবারো সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে।
জবাবে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন। নুয়ান থুসারার ইনসুইং ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ০ রানে বিদায় নেন। রিভিউ নিয়েও কাজ হয়নি। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়লেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লিটন দাস। তানজিদ নিয়ে দেখেশুনে বুঝে স্কোরবোর্ডে রান বাড়াতে থাকেন অধিনায়ক। পাওয়ার প্লে’তে দু’জনে মিলে লঙ্কান বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩২ রানে কামিন্দু মেন্ডিসকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে কুশল পেরেরাকে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন লিটন দাস। ২৬ বলে ৩২ রান করেন এই অধিনায়ক।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০তে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন তানজিদ হাসান তামিম। লেগ স্পিনার জেফ্রি ভ্যান্ডারসের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে ৪৮ রানে পৌঁছান তিনি। পরের বলে চার মেরে ২৭ বলে এক চার ও পাঁচ ছয়ে তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। তখনি মূলত জয়ের আশা করতে থাকে টাইগাররা। বাংলাদেশ ১০০ রান করে ১২.১ ওভারে। তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন তৌহিদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তানজিদ ৭৩ রানে এবং তৌহিদ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। লঙ্কানদের হয়ে দু’টি উইকেট নেন নুয়ান থুসারা ও কামিন্দু মেন্ডিস।
এর আগে টি-২০তে স্থায়ী অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই টস জিততে পারেননি লিটন দাস। আরব আমিরাতের পর পাকিস্তান সফরেও তিন ম্যাচের সব ক’টিতেই টস হেরেছিলেন। চলমান শ্রীলঙ্কা সফরেও তিন টি-২০-এর সব টস হেরেছেন। এ নিয়ে টানা ৯ ম্যাচে টস হেরেছেন লিটন।
ইনিংসের প্রথম বলেই শরিফুল ইসলামকে কাভার দিয়ে ড্রাইভ করে চার মেরে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরু করেন পাথুম নিশাঙ্কা। ওভারের শেষ বলে কুশল মেন্ডিসকে (৬) বিদায় করেন শরিফুল। দ্বিতীয় ওভারে শেখ মাহেদীর বলে স্লিপে তানজিমকে ক্যাচ দিয়েছেন কুশল পেরেরা (০)। মিরাজের বদলি হিসেবে ফিরেই পেলেন উইকেট।
ক্যাচ মিসের মহড়াও হয়েছে। শরিফুলের করা দ্বিতীয় ওভারে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে টপ এজ হয়েছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। দৌড়ে গিয়েও সেই ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিম। দুই বল পর শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চলে দীনেশ চান্দিমালের ক্যাচ ছেড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে নিজের তৃতীয় ওভারে মাহেদীর শিকার ৫ বলে ৪ রান করা চান্দিমাল। নিজের শেষ ওভারে লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাকে বোল্ড করেন মাহেদী (৩)। ইনিংসের ১১তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন ৪৬ রান করা পাথুম নিশাঙ্কাকে। মাহেদীর শেষ ওভারে কোনো রানই নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। মেহেদী ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বোলিং শেষ করেন।
একপ্রান্ত আগলে রাখা কামিন্দু মেন্ডিসকে (২১) ইনিংস বড় করতে দেননি শামীম পাটোয়ারী। ৭ উইকেটে ১০৭ রানে ধুঁকছে স্বাগতিক ব্যাটাররা। শেষ ওভারে শরিফুল ২২ রান দিলে ৭ উইকেটে ১৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। শানাকা ৩৫ ও মাহেশ থিকসানা ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। মাহেদী ৪টি, শরিফুল, মোস্তাফিজ ও শামীম একটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলঙ্কা : ১৩২/৭ (নিশাঙ্কা ৪৬, কুসাল মেন্ডিস ৬, পেরেরা ০, চান্দিমাল ৪, আসালাঙ্কা ৩, কামিন্দু মেন্ডিস ২১, ভান্ডারসে ৭, শানাকা ৩৫*, থিকসানা ৬*, মাহেদী ৪/১১, রিশাদ ০/২০, মোস্তাফিজ ১/১৭, শামীম ১/১০, শরিফুল ১/৫০)।
বাংলাদেশ : ১৬.৩ ওভারে ১৩৩/২ (ইমন ০, তানজিদ ৭৩*, লিটন দাস ৩২, তৌহিদ ২৭*, থুসার ১/২৫, কামিন্দু ১/২১)।
ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : ২-১ এব বাংলাদেশ জয়ী।
ম্যাচ সেরা : শেখ মাহেদী হাসান।