পশ্চিমতীরে ইসরাইলি দখলদারির বিরুদ্ধে মুসলিম ও পশ্চিমা বিশ্ব
Printed Edition
আলজাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি
ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে সম্প্রতি ইসরাইলের দখলদারি কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা এবং পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন আরব লিগ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দুই ডজনেরও বেশি রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও ইসরাইলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
আরব লিগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ কার্যত দখলকৃত পশ্চিমতীরে ডি ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ (বাস্তবিক অর্থে একতরফা অন্তর্ভুক্তি) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবের পরিপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে।
তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের স্থিতাবস্থা রক্ষা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা নেয়া হয়।
তা ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি দখলকৃত পশ্চিমতীর ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত করার (অ্যানেক্সেশন) বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি যে পদক্ষেপগুলো অনুমোদন করেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, আমি সংযুক্তির বিরুদ্ধে।
তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের ভাবার মতো যথেষ্ট বিষয় আছে। পশ্চিমতীর নিয়ে নতুন করে ঝামেলায় জড়ানোর প্রয়োজন নেই। দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ।
ইইউর পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস এসব সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা বলে অভিহিত করেছে। গত রোববার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার লক্ষ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ অনুমোদন করে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, পশ্চিমতীরে ব্যক্তিগত ইসরাইলিদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল, জমির মালিকানার নথি উন্মুক্ত করা, হেবরনের কাছে একটি বসতি এলাকায় নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভা থেকে ইসরাইলের সিভিল প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া।