ইউক্রেনে হুমকির মুখে হাঙ্গেরীয়দের ভাষা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইউক্রেনের জাকারপাটিয়া অঞ্চল, যা স্কি রিসোর্ট ও পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত, এখন হাঙ্গেরি ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলে এক লাখের বেশি জাতিগত হাঙ্গেরিয়ান বসবাস করেন। অঞ্চলটি অতীতে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান, চেকোস্লোভাক ও সোভিয়েত শাসনের অধীনে ছিল এবং বর্তমানে স্বাধীন ইউক্রেনের অংশ। আলজাজিরা।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জাকারপাটিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্র উঝহোরোদ রুশ হামলা থেকে অনেকটাই নিরাপদ। অঞ্চলটি পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও রোমানিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এবং কিয়েভের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। হাঙ্গেরি অভিযোগ করছে, সংখ্যালঘুদের ভাষা ও শিক্ষার অধিকার হুমকির মুখে। এ বিরোধ ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংযোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইউক্রেন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ইউক্রেনীয় ভাষার ব্যবহার জোরদার করে। ২০১৭ সালে একটি শিক্ষা আইন পাস হয়, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর থেকে ইউক্রেনীয় ভাষায় পাঠদান বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে হাঙ্গেরি ভাষার ব্যবহার কমে যায় এবং হাঙ্গেরি প্রতিবাদ জানায়।

২০১৯ সালের রাষ্ট্রভাষা আইন এবং ২০২৩ সালের সংশোধনীও সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। হাঙ্গেরি বলছে, প্রাথমিকের পর সংখ্যালঘু ভাষায় শিক্ষা এখনো সীমিত। ২০২২ সালের পর থেকে বিষয়টি আরো রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। হাঙ্গেরি সংখ্যালঘু অধিকারকে ইউক্রেনের ইউরোপীয় পথের ওপর ভেটো হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় বাস্তবতায়, উঝহোরোদের ১৭ বছর বয়সী হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী করনেলিয়া বলেন, ‘আমার বন্ধু আছে হাঙ্গেরিতে, আবার ইউক্রেনেও। ভাষা কখনো সমস্যা হয়নি।’ জাকারপাটিয়ায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাঙ্গেরি ভাষায় পাঠদান অনুমোদিত। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে ইউক্রেনীয় ভাষা প্রধান হয়ে ওঠে।

১৫ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত সোফিয়া বলেন, ‘আমার বন্ধুরা হাঙ্গেরি ভাষায় কথা বলে, এতে কোনো সমস্যা হয় না।’ ২০ বছর বয়সী বইয়ের দোকানের সহকারী ইউলিয়া বলেন, ‘উঝহোরোদ শান্তিপূর্ণ ও বহুসাংস্কৃতিক শহর। রুশ আগ্রাসনের পর মানুষ ছোটখাটো পার্থক্য নিয়ে ঝগড়া না করে নিরাপদ আশ্রয়ের কারণে এখানে আসছে।’ বিশ্লেষক লাজোসি-মুর বলেন, হাঙ্গেরি আলোচনার বদলে উত্তেজনা বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে, যা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করে না। তিনি বলেন, যদি হাঙ্গেরি সত্যিই সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন হতো, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভরসা করত এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখত। তিনি আরো বলেন, কিয়েভকে সংখ্যালঘু সুরক্ষায় বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে হবে, যাতে হাঙ্গেরি নিজ দেশের জনগণকে বলতে পারে, ‘আমরা সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি, এখন পরবর্তী ধাপে সমর্থন দিচ্ছি।’