মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ক্লাস টেস্টের নামে অর্থ আদায়

Printed Edition

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস টেস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ২০ নম্বরের ক্লাস টেস্টের জন্য নিয়মবিরোধীভাবে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। যার অঙ্ক দাঁড়িয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকায়।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। নিয়মিত পাঠদানের অংশ হিসেবে ক্লাস টেস্ট নেয়া হলেও এর জন্য সরকারি কোনো ফি নির্ধারিত নেই। অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ১৫ অক্টোবর অধ্যাপক আব্দুল হামিদ মোল্লা ও ক্লাস টেস্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহানের স্বীকৃত রুটিন প্রকাশ করা হয়। রুটিন অনুযায়ী ২ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিনিটের একাধিক ক্লাস টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ৩০০ টাকা করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘টাকা না দিলে পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না’ এমন হুমকি দেয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের মতে, এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসছেন, তাই এই জোরপূর্বক ফি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ক্লাস টেস্ট কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহান বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফি নেয়া হয়েছে। কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হামিদ মোল্লাও একই কথা স্বীকার করেছেন, তবে সরকারি লিখিত নির্দেশনার বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেননি।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।