খামেনি হত্যায় মুসলিম বিশ্বে নতুন অধ্যায় সূচনা হবে : পেজেশকিয়ান
Printed Edition
মিডল ইস্ট আই ও এএফপি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে একটি ‘মহাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর জবাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, এই মহাপরাধ কখনোই জবাবহীন থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্ব ও শিয়া মাজহাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে। এই উচ্চপদস্থ নেতার পবিত্র রক্ত একটি গর্জনকারী ঝরনার মতো প্রবাহিত হবে এবং আমেরিকা-জায়নবাদী নিপীড়ন ও অপরাধ নির্মূল করবে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, এবারো আমরা আমাদের সবশক্তি ও দৃঢ়তা দিয়ে এবং ইসলামী উম্মাহ ও বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সমর্থনে এই মহাপরাধের হোতা ও নির্দেশদাতাদের অনুতপ্ত করতে বাধ্য করব। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা মানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা; বিশেষ করে, শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনি শুধু ইরানের রাজনৈতিক প্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্তৃত্ব। তার হত্যাকাণ্ড মুসলিম উম্মাহর ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরো বলেন, এই বেদনাবহ ঘটনা আজ ইসলামী বিশ্বের সামনে আসা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এটি শুধু ইরান নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বিশাল ট্র্যাজেডি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে এভাবে হত্যা করা- বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেয়া ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অধিকার ও কর্তব্য। পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব এবং অধিকার বলে মনে করে।