গোলাম দস্তগীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার সাবেক পিএস এমদাদুল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে অবৈধভাবে ২৪০১.৪৬ শতাংশ জমি জবর দখল, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করার অভিযোগ রয়েছে। ওই জমির বর্তমান সরকারি বাজারমূল্য ৮৬ কোটি ৭৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৪ টাকা।

মামলায় এজাহারনামীয় অভিযুক্তরা হলেন- রূপগঞ্জ-১ এর সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, এমদাদুল হক, সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, মাহাবুবুর রহমান জাকারিয়া মোল্লা, আনছার আলী, আলফাজ উদ্দিন ও দিমন ভূঁইয়া।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরো সাত-আটজনের সহায়তায় একটি সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। তারা ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী শাহ আলমের ১২৪ শতাংশ, আব্দুস সোবহান মিয়ার ১০ শতাংশ, নাঈম প্রধানের ১৮ শতাংশ, হাসিনা বেগমের ০৯ শতাংশ, আলেয়ার ৪৫ শতাংশ, ইয়াছিন প্রধানের ২৭.৫ শতাংশ, সানজুরা বেগমের ০৪ শতাংশ, আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়ার ৭২ শতাংশ, মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়ার ৩৪৬ শতাংশ, হাবিব খানের ১৮৩.৫ শতাংশ, রাশিদা ভূঁইয়ার ১২৪ শতাংশ, আমজাদ আলী ভূঁইয়ার ৭৬০.৫ শতাংশ, মোবারক ভূঁইয়ার ৩১ শতাংশ, নূর-ই-তাছলীম তাপসের ৪৩০.৭ শতাংশ, মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার ৭১.৪৭ শতাংশ এবং মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের ৬৫ শতাংশ জমি প্রতারণার মাধ্যমে জবর দখল করেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি ক্রোক করা আছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকা। ক্রোককৃত সম্পত্তির গ্রহণকারী হিসেবে সিএমএম কোর্টের সিনিয়র স্পেশাল জজ সিআইডি প্রধানকে নিয়োগ করেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত করছেন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।