চট্টগ্রামে শহরে অবৈধ আবাসন ও বাইরে মাটির ব্যবসা

রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়

হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও হ্রদের অপরূপ সমারোহে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই চট্টগ্রামে আদৌ পাহাড় থাকবে কিনা সে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার অর্ধশতাব্দীতে এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে সিকিশত পাহাড়। এর বাইরে যেসব পাহাড় টিকে ছিল সেগুলোও পাহাড় খেকোদের লোলুপ দৃষ্টিতে এখন একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়খেকোরা এরই মধ্যে চট্টগ্রামের ৩৪ স্থানের পাহাড়ি ভূমিকে অন্য শ্রেণীভুক্ত করে রেখেছে যাতে সহজেই কেটে ফেলা যায়। একের পর এক পাহাড় ধ্বংসের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য, ফলে বাড়ছে উত্তাপ। আর বর্ষাকালে ন্যাড়া পাহাড়গুলো প্রচুর পানি শোষণ করে একপর্যায়ে ধসে পড়ে জীবন হানি যেমনি ঘটাচ্ছে, তেমনি জলাবদ্ধতারও অন্যতম কারণ এই পাহাড়কাটা। আর পাহাড়কাটার সাথে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেমনি আছেন, তেমনি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেও রয়েছে পাহাড় কাটার অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ছাড়াই নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে। অথচ যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই পাহাড় রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা ছিল। পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিতে আবার সরকারি বিভিন্ন সেবা সংস্থার (বিদ্যুৎ, পানি) সেবাও পৌঁছে গেছে। এ দিকে চট্টগ্রামে কী পরিমাণ পাহাড় এখন পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় আছে এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি কিংবা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে। তবে চবি ও চুয়েটের বিশেষজ্ঞরাসহ পাহাড়গুলোর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পাহাড় রক্ষায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের নজরদারির দুর্বলতা যেমনি রয়েছে। তেমনি আমলযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারলেও বাস্তবে তা দেখা যায় না।

পাহাড় কাটার পরিস্থিতি

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার সঠিক ইতিহাস বের করা অত্যন্ত কঠিন। তবে রেকর্ড বলছে যে ১৭৬০ সালে পাহাড় কেটে এবং গাছপালা সাফ করে ইংরেজরাই প্রথম এই অঞ্চলের উন্নয়ন শুরু করেছিল (ইসলাম, ২০০৮)। তাই বলা যেতে পারে যে, তার আগে চট্টগ্রামের পাহাড়প্রায় অক্ষত ছিল। গবেষকদের মতে, ১৯১০ সালের গোড়ার দিকে চট্টগ্রাম শহরে ২০০টিরও বেশি পাহাড় ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, চট্টগ্রাম শহর দেশের বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হয় এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপের সাথে তাল মিলিয়ে পাহাড় কেটে দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ন ঘটে। গত অর্ধশতাব্দীতে অবৈধ এবং অপরিকল্পিতভাবে কাটার কারণে চট্টগ্রাম শহর বিভিন্ন আকারের শতাধিক পাহাড় হারিয়েছে। এ ছাড়া শহরের বাইরে অবৈধ মাটির ব্যবসা পাহাড় কেটেই চলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। আট হাজার একর রিজার্ভ বন উজাড় করেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো গড়ে উঠেছে।

পাহাড় কাটার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে

নগরীর চন্দ্রনগর, আকবরশাহ, খুলশী, শেরশাহ বাংলাবাজারসহ বিভিন্নস্থানে পাহাড়কেটে সাবাড় করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং অভিজাত গোষ্ঠী, সংস্থা বা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো পাহাড়িজমি সমতল করে এবং তারপর আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রি করে। দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা, জালালাবাদ হাউজিং, বেভারলি হিল, কানান্ধরা আবাসিক এলাকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, নন্দন হাউজিং, শাপলা হাউজিং, চৌধুরী এস্টেট ইত্যাদি সবই পাহাড় কেটে সমতল করে গড়ে তোলা।

শুধু দরিদ্র ও ধনী ব্যক্তি বা প্রভাবশালী সংস্থাই নয়, সরকারি কর্তৃপক্ষও পাহাড় কাটার জন্য অভিযুক্ত। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) তার আবাসন প্রকল্পের জন্য পাহাড় কেটেছে। ভিআইপি হাউজিং, লেক সিটি হাউজিং এবং কোবে হাউজিং হল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাহাড় কাটা আবাসিক প্রকল্পের উদাহরণ। চট্টগ্রামে তাদের অফিস ভবন নির্মাণের সময় পরিবেশ অধিদফতরকেও পাহাড় কাটার জন্য দায়ী করা হয়। অতি সম্প্রতি চীনা অর্থায়নে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ বার্ন ইউনিট নির্মাণেও পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠে এবং একপর্যায়ে তা স্থগিত করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে ব্যাপক পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে সিডিএ কর্তৃক বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড (সিডিএ অ্যাকসেস রোড) নির্মাণে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদনের বাইরে ১৮টি পাহাড় কেটে প্রায় ১০ লক্ষাধিক ঘনফুট মাটি অপসারণ করেছিল। অবৈধ পাহাড় কাটার দায়ে তখন সরকারের এ সংস্থাকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সম্প্রতি নিজস্ব ভবন নির্মাণের সময় জয় পাহাড়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠে। এবং সংস্থাটিকে পাহাড় কাটার দায়ে পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক পরিবেশগত ক্ষতিপূরণও আরোপ করা হয়েছে। এ দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে উপকূল রক্ষা বনের প্রায় ১৩ লাখ গাছ কাটা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক প্রাণিও বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

শহরের বাইরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইটভাটা এবং শহরের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি একেবারেই ওপেন সিক্রেট।

বাস্তবে পাহাড়, রেকর্ডে ভিন্ন শ্রেণী?

বাস্তবে পাহাড় কিন্তু ভূমি রেকর্ডে নাল বা ছনখোলা বা আবাসিক বা ভিটি শ্রেণীভুক্ত করে রাখা হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাহাড়কে। এসব পাহাড়কেটে প্রতিনিয়তই সাবাড় করা হচ্ছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলোরও যেন কিছুই করার নেই। এরই দৃশ্যমান উদাহরণ হলো অতি সম্প্রতি জামালখানের গ্রিনল্যাজ পাহাড়কে ভিটি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত থাকার অজুহাতে প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কেটেই নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য মতে, নগরীর ৩৪টি স্থানে এ ধরনের পাহাড়কে ভিটি বা ছনখোলা বা নাল বা আবাসিক শ্রেণীভুক্ত করে রাখা হয়েছে।

পাহাড় রক্ষায় সরকারি তৎপরতা

চট্টগ্রামের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নয়া দিগন্তকে বলেন, গত অর্থ বছরে প্রায় ২১০টি মামলা রুজু হয়েছে এবং অর্ধকোটি টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কার্যক্রম চলমান আছে। এটার জন্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিক এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে। নইলে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে। এবারের সভায়ও বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে, আশাকরি আগামী দিনে ভালো ফল পাওয়া যাবে। কাগজে-কলমে অন্য শ্রেণী থাকলেও বাস্তবে যদি আমরা দেখতে পাই যে পাহাড় তখন আমরা একশনে যেতে পারি। আদালতের রায় থাকলে রায় প্রাধান্য পাবে। নতুন করে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি খাস এবং অন্যান্য পাহাড়গুলো রক্ষায় ব্যাপকভাবে বনায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন থাকলে পাহাড় রক্ষা পায় এরকম একটি সত্যতা আছে। এ জন্য একটি উপকমিটিও করে দেয়া হয়েছে। পাহাড়গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যেই কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চুয়েটের অধ্যাপকবৃন্দ, পরিকল্পনাবিদ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। এই কমিটি যাচাই করে চট্টগ্রামে কী পরিমাণ পাহাড় আছে এবং সেগুলোর অবস্থা কেমন সে সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। পাহাড় কেটে গড়া অবৈধ বসতিগুলোতে বিদ্যুৎ, পানিসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে যাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ৩১তম সভায় বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ কেটে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসতিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মো: জমির উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, পাহাড় কাটার বিষয় আমাদের গোচরীভূত হলেই আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি, মামলা হচ্ছে, মোবাইল কোর্ট হচ্ছে। অবৈধভাবে পাহাড় টিলা কর্তনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট মামলা দায়ে করে শুনানির মাধ্যমে সাড়ে ২১ লাখ টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ দিকে কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: জমির উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলায় মোট ১০টি উপজেলা রয়েছে। কক্সবাজার জেলার মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেক অংশ (৫০%) জুড়ে রয়েছে পাহাড় ও টিলা। অবৈধভাবে পাহাড় বা টিলা কর্তনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ২৩টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একটি এস্কেভেটর ও একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

পাহাড়ের ঢালে লাখো অবৈধ বসতি!

চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ের ঢালে লাখো মানুষের অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে রাজনৈতক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উঠে এসেছে শুধু চট্টগ্রাম শহরের মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলের ঢালেই প্রায় এক লাখ লোকের বসতির তথ্য। এর মধ্যে আবার প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এ ছাড়া ফয়’স লেক এলাকার ১,২,৩ নং ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ের অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন ১৬টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করে ছয় হাজারের বেশি পরিবার। আর ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে ৩৮৩টি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে।

অবৈধ বসতিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ

পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতিগুলোতে রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ, ওয়াসার পানির লাইন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয় এমন অভিযোগ নিত্যদিনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবৈধ এসব বিদ্যুৎ সংযোগ রক্ষায় পাহাড়ে বসতি স্থাপনকারীরা আবার উচ্চ আদালতেরও দারস্থ হচ্ছেন।

পুনর্বাসনের চিত্র

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপনকারীদের মৃত্যুর মিছিল প্রতি বর্ষায় অনেকটাই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে প্রশাসন কিছুটা নড়ে চড়ে বসে। বর্ষা এলে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়। আবার কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতেই থেকে যান এবং দুর্ঘটনার শিকার হন। বিভিন্ন সময়ে সরকারি তরফে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও কার্যত বাস্তবে এ ধরনের স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে মৃত্যুর মিছিলও থামে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যাবিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, গত অর্ধশতাব্দীতে চট্টগ্রাম শহর ১২০টিরও বেশি পাহাড় হারিয়েছে। পাহাড় কেটে আবাসিক প্লট তৈরি, অবৈধভাবে বালু ও মাটি বিক্রি, বস্তি স্থাপন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যালয় স্থাপন, নিচুভূমি ভরাট করা এবং রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণে এসব পাহাড় হারিয়ে গেছে।