পদত্যাগ করলেন দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার

কোনো চাপ নয়, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ : বিদায়ী চেয়ারম্যান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই পদত্যাগপত্র দেন তারা। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়ে কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আজ (মঙ্গলবার) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

এ দিকে বিদায়ী চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, কোনো চাপ নয়, নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণ ও কাজ করার সুযোগ করে দিতে পদত্যাগ করেছি। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাফিজ আহ্সান ফরিদ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং দুই কমিশনার জহুরুল হক ও আছিয়া খাতুন পদত্যাগ করেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ ও দুই কমিশনার।

২০২১ সালের ৩ মার্চ মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। তিনি ইকবাল মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হন। ওই সময় তার সাথে জহুরুল হককে কমিশনার (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর দেড় বছর পর আছিয়া খাতুনকে কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খানের স্থলে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। চার বছরের মেয়াদ পূরণের আগেই ২০০৭ সালে ‘এক-এগারোর’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পদত্যাগ করেন তিনি।

২০০৭ সালেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয় কমিশন। তিনিও মেয়াদ পূরণের আগেই ফিরে যান। এরপর ২০০৯ সালে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান সাবেক সচিব গোলাম রহমান। মেয়াদ শেষে তিনি ফিরে গেলে ২০১৩ সালে চেয়ারম্যান হন মো: বদিউজ্জামান।

এরপর ২০১৬ সালের মার্চে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ। ইকবাল মাহমুদের মেয়াদ শেষে ২০২১ সালের মার্চে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তার সাথে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন সাবেক জেলা জজ মো: জহুরুল হক।

কোনো চাপ নয়, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ

নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণ ও কাজ করার সুযোগ করে দিতে পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ড. আবদুল মোমেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সরকারের প্রত্যাশা আছে, যে কারণে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সহযোগী হিসেবে আমরা পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে আমরা পদত্যাগ করলাম। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে পদত্যাগ করা দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাফিজ আহসান ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ড. মোমেন বলেন, আমরা অনুভব করেছি যে পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার এসেছে, তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের সময় যে অংশটুকু কাজ করতে পেরেছি, সেজন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক চলবে কি না এমন প্রশ্নে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে। সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করবে, এতে আমি ব্যত্যয় কিছু দেখছি না। আমরাও অনুভব করছি যে এখন আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য লোকের কাজ করা প্রয়োজন।