ইরানে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের প্রথম দলকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ
Printed Edition
ইরানে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে আটকেপড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রথম দলের ৯০ জনকে আজ পাকিস্তান হয়ে দেশে পাঠানোর তৎপরতা শুরু হবে। তেহরান থেকে পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া হবে বাসে করে। নানা চেষ্টা ও তদবির করে বাস জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনজুরুল করিম জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন অবস্থার কারণে বাস জোগাড় করতে খুবই কষ্ট পোহাতে হয়েছে। প্রথম দলে কোমের কয়েকজন ছাত্র, পর্যটক, স্বাস্থ্য পর্যটনে গিয়ে আটকেপড়া কয়েকজন, ইরানে কর্মরত বাংলাদেশীদের পরিবার রয়েছেন। তবে রেডিও তেহরানের কর্মীদের পরিবার এ দলে নেই।
পাকিস্তান সীমান্তে ঢোকার পর বাংলাদেশীদেরকে পাঁচ/ছয় শ’ কিলোমিটার দূরবর্তী কোয়েটাতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে ইসলাবাদের বাংলাদেশ দূতাবাস। সেখান থেকে এ সব নাগরিককে স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।
অবৈধ বাংলাদেশীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইরান সরকার সব রকম সহায়তা করছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের স্বদেশে ফেরা নিয়ে ইরানে আইন-কানুনের নানা বেড়াজালের ফলে সাধারণ অবস্থায় ন্যূনতম এক মাস সময় লেগে যায়। কিন্তু যুদ্ধকালীন অবস্থা হওয়ায় ইরান সরকার সে সব নিয়ম-নীতি পাশকাটিয়ে সহজে স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে গত রাতে এ-সংক্রান্ত পুলিশ দফতরের ওপর ইসরাইলি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে।
আটকেপড়া বাংলাদেশীদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বাংলাদেশই বহন করছে, একটি সূত্র এ খবর জানিয়েছে। একই সূত্র থেকে জানান হয়, ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশী স্বদেশে ফেরার জন্য অনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসের কাছে আবেদন জানিয়েছে। প্রথম দফায় যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ৯০ জনকে প্রথম স্বদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরানে বাংলাদেশী কাউন্সিলের বাসভবন ইসরাইলি বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে এর আগে যে খবর রটেছিল তা ঠিক নয়। হামলায় তার বাসভবনের ক্ষতি হলেও সেটাকে গুঁড়িয়ে দেয়া বলা যায় না। সে সময় সৌভাগ্যক্রমে এ বাসভবনে কাউন্সিলর ওয়ালিদ ইসলাম ছিলেন না। বাংলাদেশী কূটনীতিবিদের বাসায় নাকি আশ্রয় নিয়েছিলেন সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল গাদির। তিনি ইসরাইলের হত্যা তালিকায় রয়েছেন। তবে বাসভবনে বোমা হামলার সময়টিতে তিনি ওখানে না থাকায় এ যাত্রা তিনিও প্রাণে রক্ষা পেয়ে যান। যুদ্ধের মধ্যেই ঢাকা থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা দেন ওয়ালিদ, সূত্রটি জানায়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তাকে ইস্তাম্বুলে আটকা পড়তে হয়। সেখান থেকেই তিনি স্বদেশীদের দেশে ফেরানোর তৎপরতা চালিয়ে যান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক বাংলাদেশীদের তাদের পাসপোর্টের অনুলিপি ও টেলিফোন নম্বর পাঠাতে বলে বিব্রতকর অবস্থার মোকাবেলা করেছেন বলেও কোনো কোনো সূত্র জানায়।
এসব সূত্র থেকে বলা হয় যে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের নানা মর্জির কারণে তাদের স্বদেশে পাঠাতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ পাকিস্তানের বদলে আজারবাইজান আবার কেউ তুরস্ক হয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা মেটানোর ক্ষমতা দূতাবাসের নেই। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তেও কেউ কেউ যাবেন না বলেও জানিয়ে দেয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দূতাবাসকে। প্রথম দলের ৯০ জন প্রত্যাবর্তনের পর দ্বিতীয় দলকে দেশে ফেরার জন্য পাকিস্তানে ঢোকার অনুমতি দেয়া হবে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেছে কারণ দেখিয়ে অনেকেই স্বদেশে ফেরার ইচ্ছা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশ সরকার আটকেপড়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করবে। কিন্তু পুনরায় ইরানে ফেরার খরচের জোগান সরকার দেবে না বলে কেউ কেউ স্বদেশ ফেরার কর্মসূচি বাতিল করে দেন। শেষ সময়ে এভাবে মত পরিবর্তন দাফতরিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। শেষ পর্যন্ত কতজন স্বদেশে ফিরবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন কেউ কেউ। এ ছাড়া ইরানে খুবই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে চিকিৎসার জন্য যারা গিয়েছিলেন কোনো কোনো বাংলাদেশীর লোভের কারণে তাদের অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি বলেও একটি অভিযোগ শোনা গেছে।