কে হচ্ছেন রাসিক নতুন প্রশাসক
আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতা
Printed Edition
মুহা: আবদুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো
কে হচ্ছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নতুন প্রশাসক- এমন আলোচনা এখন নগরজুড়ে। এ নিয়ে রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কৌতূহল ও প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে দলের হাফ ডজনেরও বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। সরকার দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ছয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। যে ছয়টিতে এখনো প্রশাসক দেয়া হয়নি সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী অন্যতম।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত ছয় সিটি করপোরেশনে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তাই রাজশাহীতেও বিএনপি থেকে কেউ একজন নিয়োগ পাবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এ কারণে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নেতারা প্রশাসক হতেও নানা তৎপরতা ও লবিং শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিদ হাসান এবং বিএনপির একজন সাবেক নেতা ও ব্যবসায়ীসহ আরো ক’জন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের কেউ ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, আবার কেউ রাজশাহী থেকে দলের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
তাদের মধ্যে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী মহানগরবাসীর কাছে সুপরিচিত মুখ। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি। বরখাস্ত এবং কারাবন্দী জীবনও পার করতে হয়েছে তাকে। উচ্চ আদালতের রায় অনুকূলে এলেও মেয়রের চেয়ারে আর ফিরতে দেয়া হয়নি বুলবুলকে।
মহানগর বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে বুলবুল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকটা পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন বুলবুল। দলীয় আনুগত্যের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন। তাই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলে তিনি নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে মনে করছেন তারা।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, দলকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিএনপি নেতা মামুনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তার অতীত অবদানের বিষয়টি দল বিবেচনায় নেবে। আর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলে তিনি যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে মনে করছেন তারা।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনও রয়েছেন সম্ভাব্য এ তালিকায় তিনি মনে করেন, জনসেবার লক্ষ্যে রাজনীতি করা উচিত এবং দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নেতাকর্মীদের আরেকটি অংশ মনে করেন, রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাহফুজুর রহমান রিটনের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাংগঠনিকভাবেও যোগ্য ও দক্ষ তিনি।
তাই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।
প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ওয়ালিউল হক রানা। মেয়র পদে মনোনয়ন বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দুই ক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি।
আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ এক সময় মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরে ছিলেন যুবদলে। প্রশাসক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দল তরুণদের বিবেচনা করলে দায়িত্ব পেলে কাজ করতে প্রস্তুত আছেন। মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিদ হাসান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
অতীতে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দল চাইলে এ দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তত আছেন বলে জানান। এ ছাড়া বিএনপির আরো কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক নেতা ও ব্যবসায়ী রাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তারা দলে তাদের অতীত ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে লবিং করছেন বলে জানা গেছে।