রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে শপথ ভঙ্গ হয়েছে

উদ্বেগ জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের

Printed Edition
back-4
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের দেয়া বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার পরিপন্থী’ আখ্যায়িত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সাথে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতির এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের মতে, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার এ বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য দেয়াা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সাথে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত ও পরিমিত বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেকের কর্তব্য। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো বক্তব্য প্রদানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিবৃতিতে জামায়াত নেতা স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে জাতি আরো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ছাড়া স্বাধীনতা নিরাপদ নয় : গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অখণ্ড ও নিরাপদ রাখতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত করার চক্রান্ত।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে গতকাল মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়েজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পিলখানা বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি হত্যাকাণ্ড বললে ভুল হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর পদমর্যাদার কোনো সেনাকর্মকর্তা শহীদ হননি এমনকি যারা শহীদ হয়েছেন তার সংখ্যাও সীমিত; কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় ৫৪ জন উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান নীরব থাকাই প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানও জড়িত। ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং সেই সুযোগে বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে তাদের করদ রাজ্য করা।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

সভা শেষে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাকর্মকর্তাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সব আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।