প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের দায়িত্ব পাচ্ছে না ম্যানেজিং কমিটি

পরীক্ষা এগিয়ে আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনটিআরসিএ

Printed Edition

শাহেদ মতিউর রহমান

নিকট অতীতে আওয়ামী আমলের মতো নিয়োগ বাণিজ্যের বিতর্ক এড়াতে স্কুল কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে অধ্যক্ষ/ উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগে এবার ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। যদিও গতকাল সোমবার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং শিক্ষা উপদেষ্টার ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই অতি দ্রুততার সাথে স্কুল কলেজ এবং মাদরাসার প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই শেষ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার ইস্কাটনের এনটিআরসিএর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তারা প্রত্যেকেই স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। যদিও সম্প্রতি এক শিক্ষক নেতা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া স্কুল কলেজে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে কমিটি গঠন এবং তাদের মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন। অন্য দিকে অপর শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী এনটিআরসিএর মাধ্যমেই স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি একটি জরিপ থেকে জানা যায়, কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ চান না আবেদন করা ৯২ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী। তারা স্বাধীনভাবে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেতে চান। প্রার্থীদের অনেকেই জানান, আগে টাকার বিনিময়ে কিংবা কমিটির মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন পরিচয়ে কম মেধার লোকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যেত। এবার একটি ভালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন থেকে যোগ্য এবং মেধাবীরাই প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সূত্র মতে, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। তবে সর্বশেষ তথ্যমতে এসব পদে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৮৬ হাজার ৪৪৫টি। এই আবেদন তিন গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক- গ্রুপে মোট ৩৬ হাজার ৩২৩টি, খ-গ্রুপে মোট ৩২ হাজার ৪৮৮টি ও গ- গ্রুপে মোট ১৭ হাজার ৬৩৪টি আবেদন জমা পড়েছে।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ক- গ্রুপে রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ তিন হাজার ৭৭৮টি। স্নাতক (পাস) কলেজে উপাধ্যক্ষ ছয় হাজার ৭৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২১ হাজার ৪৬২টি। ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ এক হাজার ৩৬৩টি। দাখিল মাদরাসায় সুপার দুই হাজার ৯৮২টি। এসব পদে মোট ৩৬ হাজার ৩২৩টি আবেদন পড়েছে।

খ- গ্রুপে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজে অধ্যক্ষ ৮১৪টি। স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৬২৪টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহ-প্রধান শিক্ষক ২৮ হাজার ৭৬৮টি। কামিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ ৫৯৭টি। আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ এক হাজার ৬৮৫টি। এখানেও মোট ৩২ হাজার ৪৮৮টি আবেদন পড়েছে। সর্বশেষ গ- গ্রুপে ভোকেশনালের সুপার ৫৫৬টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ছয় হাজার ২১৩টি। নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পাঁচ হাজার ২০০টি। কামিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ ৪৫৪টি। দাখিলের সহ: সুপার তিন হাজার ২৬২টি। আলিম মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ ৮৪১টি। ফাজিল উপাধ্যক্ষ এক হাজার ১০৮টি। এসব পদে মোট ১৭ হাজার ৬৩৪টি আবেদন পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগে আবেদন শেষ হয়েছে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ঈদের পরপরই হতে পারে। পরীক্ষা শেষে এক সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পরপরই ভাইভা নেয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত ফল আগস্টে প্রকাশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এনটিআরসিএর দায়িত্বশীল একটি সূত্র নয়া দিগন্তকে জানায়, মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদের বিপরীতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৮৬ হাজার ৪৪৫টি। তবে কিছু পদে একাধিক প্রার্থী আবেদন করায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এই সংখ্যাটি মোট ৭৩ হাজার ৮৯৮ জন।

সূত্র আরো জানায়, বিজি প্রেসের পরামর্শ অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার একটি সম্ভাব্য তারিখ আগে থেকে নির্ধারিত ছিল ১৭ বা ১৮ এপ্রিল। কিন্তু এখন শিক্ষামন্ত্রী এই তারিখ আরো এগিয়ে আনার বিষয়ে বলেছেন। যদিও সামনে এসএসসি পরীক্ষার কারণে এটা সম্ভব হবে কি না সে বিষয়ে ভাবছে বিজি প্রেস কর্র্র্তৃপক্ষ। অন্যদিকে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে এখন থেকেই সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রয়োজনে প্রশ্ন ছাপানোর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রেসে অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা আসতে পারে বলেও জানা গেছে।