চুলার ওমে বিড়াল : জি এম মিন্টু
Printed Edition
যশোরের কেশবপুর উপজেলার আটন্ডা গ্রামে দেখা গেছে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। গ্রামীণ বধূরা যখন কনকনে ভোরে মাটির চুলায় রান্না শুরু করেন ঠিক তখনই সেখানে হাজির হয় বাড়ির আদুরে বিড়ালটি। আগুনের হালকা আঁচ আর মাটির চুুলার ওম যেন তার কাছে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সেরা স্বর্গ। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে মাটির চুলার একদম গা ঘেঁষে চোখ বুজে বিড়ালটির শুয়ে থাকার দৃশ্যটি যেন গ্রাম বাংলার এক চিরায়ত ও শান্ত প্রতিচ্ছবি।
উষ্ণতার এক পরম আশ্রয় : যশোরের এই অঞ্চলে শীতকালে গ্রামের গৃহবধূরা বাড়ির বাইরে বা বারান্দায় মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করেন। রান্নার পর চুলার সেই অবশিষ্ট তাপ দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। একটি সাদা-ধূসর রঙের বিড়াল সেই চুলার পাশে পরম আস্থায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে। মানুষের তৈরি এই উষ্ণতাকে সে আপন করে নিয়েছে শীত নিবারণের একমাত্র উপায় হিসেবে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রাণের সাথে প্রাণের মিতালি কিভাবে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।
যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারানো শৈশব : আধুনিকতার ছোঁয়ায় শহরে আজ গ্যাসের চুলা বা ইলেকট্রিক হিটার এসেছে; কিন্তু গ্রামের এই মাটির চুলাগুলো আজও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে। এই চুলার পাশে বসে দাদী-নানীদের রূপকথার গল্প শোনা কিংবা পোষা প্রাণীদের সাথে অলস সময় কাটানোর দৃশ্যগুলো যেন আজ কেবল গ্রামেই সীমাবদ্ধ। শীতের এই সকালে বিড়ালটির শান্ত সমর্পণ আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কমিয়ে কিছুটা থামতে বলে। এটি কোনো সাজানো দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতির এক সহজাত সারল্য।
আমাদের নৈতিক দায়িত্ব : শীতের এই তীব্রতায় আমরা যখন লেপ-কম্বল বা গরম কাপড়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখি, তখন এই অবলা প্রাণীদের কষ্ট অনেক সময় আমাদের নজরে আসে না। যশোরের এই বিড়ালটি হয়তো কোনো একটি পরিবারের মায়ায় একটু আশ্রয় পেয়েছে; কিন্তু অসংখ্য প্রাণী এখনো খোলা আকাশের নিচে কাঁপছে। এই দৃশ্যটি আমাদের মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়।