গ্রেফতার অপর ১ বাংলাদেশী

সাইপ্রাসে বাংলাদেশী ছাত্রকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

Printed Edition

নরসিংদী প্রতিনিধি

সাইপ্রাসে স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশী তরুণকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি জঙ্গলে শুকনো পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত রোববার শাহীন বাবু (২২) নামে অপর এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের শেষ দিকে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে যান ইমন। তিনি লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় বাস করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে তিনি সম্প্রতি একটি কাজের সন্ধান পান। গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সাথে ফোনে শেষ কথা হয় ইমনের। তিনি জানান, রাতেই তার নতুন কাজের ডিউটি শুরু হবে। কাজের স্থানে পৌঁছে রাত ৯টায় রুমমেট রায়হান মিয়ার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লোকেশনও পাঠান তিনি।

কিন্তু রাত ১০টার দিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই তার বাবার কাছে একটি বার্তা পাঠায় অপহরণকারীরা। সেখানে বলা হয়, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। ফিরে পেতে হলে ৩৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫০ লাখ) দিতে হবে। না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেয়া হবে।’ প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা আইডি হ্যাক হয়েছে ভাবলেও, পরদিন ১২ জুন ইমন রুমে না ফেরায় রুমমেট রায়হান স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজের ডায়েরি করেন। পুলিশ লোকেশন ধরে অভিযান চালালেও তখন ইমনের সন্ধান মেলেনি। তবে অপহরণকারীদের নম্বরটি সার্বক্ষণিক সচল ছিল এবং তারা অনবরত মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল।

নিহতের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, ইমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে তারা দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশী টাকায় পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। গত রোববার দুপুরে ব্যাংকে টাকা পাঠানোর সময় তারা ইমনের সাথে শেষবারের মতো কথা বলতে চান। কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তারা টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন রাতেই সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবুকে গ্রেফতার করে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢাকা ইমনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। তবে গ্রেফতার শাহীন বাবুর দেশের বাড়ি কোথায়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাসুদ রানা বলেন, ‘সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অপহরণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং সেখানে এক বাংলাদেশী গ্রেফতার হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি এবং নিহতের পরিবারও যোগাযোগ করেনি। তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’