সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু
জেলার বিভিন্ন হাওরে মোট ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন যার জন্য আনুমানিক ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ দরকার
Printed Edition
তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে বোরো ফসল রক্ষায় নীতিমালা অনুযায়ী ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার একযোগে জেলার ১২টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাসহ কাবিটা মনিটরিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন হাওরে বাঁধের কাজ শুরু হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূরের উপস্থিতিতে হালির হাওরে ২০ নম্বর উপপ্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ টাকা বরাদ্দে বাঁধ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সাথে জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্টসংখ্যক বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাওরাঞ্চল থেকে পুরোপুরি পানি না নামা এবং বাঁধ জরিপ ও প্রকল্প প্রণয়নে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সব প্রকল্পে একযোগে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে অবশিষ্ট বাঁধগুলোর কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁধ নির্মাণের শেষ সময়সীমা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসইভাবে কাজ সম্পন্ন করতে মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা কাবিটা সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও পুনর্নির্মাণে এখন পর্যন্ত ৫১০টি প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন হাওরে মোট ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে, যার জন্য আনুমানিক ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। শতভাগ স্কিম প্রণয়ন সম্পন্ন হলে প্রকল্পের সংখ্যা ও বরাদ্দ আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০টি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৬৭৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৩টি প্রকল্পে ১৫ দশমিক ৬৫৪ কিলোমিটারের জন্য চার কোটি ৭৫ লাখ টাকা, তাহিরপুর উপজেলায় ৭৩টি প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ০৬৪ কিলোমিটারের জন্য ১৬ কোটি টাকা, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৭টি প্রকল্পে ৪০ দশমিক ৭১১ কিলোমিটারের জন্য ছয় কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং ধর্মপাশা উপজেলায় ৭৭টি প্রকল্পে ১০১ দশমিক ১০৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মধ্যনগর, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায়ও একাধিক প্রকল্পের আওতায় বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জামালগঞ্জের হালির হাওরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা, বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির, স্থানীয় কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মুনাজাত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধে মাটি ফেলার মাধ্যমে কাজের সূচনা করা হয়।
পাউবো পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরে এখনো অনেক পানি থাকায় জরিপ ও স্কিম প্রস্তুতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, নীতিমালা মেনে যে বাঁধের কাজ আগে শুরু হয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বোরো ফসল রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং এ কাজে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।