ভারতের নিষ্ঠুরতা স্মরণ করিয়ে দিতেই ফেলানীর নামে সড়ক : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষ সীমান্ত হত্যা বন্ধ চায়। আমাদের বোন ফেলানী কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রাণ দিয়েছিল। তার ওপর ভারতের বিএসএফের সংঘটিত নিষ্ঠুরতা প্রতিদিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্যই এ সড়কের নামকরণ। একই সাথে আমরা বিশ্বের বিবেকের কাছে তুলে ধরতে চাই যে, সীমান্ত হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ এখনো বাংলাদেশের সীমান্তে ঘটছে। এ কারণেই বর্তমান সরকার সব ধরনের সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে বিজয় দিবসে ফেলানীর নামে এ সড়কের উদ্বোধন করেছে।

গতকাল গুলশানে ফেলানী এভিনিউর নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ২০১১ সালে সীমান্তে ভারতের বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গুলশান-২ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটি ‘ফেলানী এভিনিউ’ নামে নামকরণ করেছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এ সড়কের নামফলকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিছক একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি একটি সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।

সভাপতির বক্তৃতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে নিজেদের সম্মান বজায় রাখার প্রতীক ও প্রতিবাদ হিসেবেই ফেলানীর নামে এ সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে কথা বলার সময় আমরা আমাদের মানবিক মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখেই কথা বলব। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সেই মানবিক মর্যাদার শিক্ষাই দেয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জে. মঈন উদ্দীন, ডিএনসিসি সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমানসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।