মা ও শিশু মৃত্যু হার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিতে গুরুত্বারোপ
চট্টগ্রামে পরিবার কল্যাণ সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শরীফ উদ্দিন বলেছেন, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। সরকার এ বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিনামূল্যের পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। এখন থেকে হোম ডেলিভারি নয়, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আবশ্যক। এ ব্যাপারে সর্বত্র গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে নগরীর সিজিএস কলোনীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় আয়োজিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের (৬-১১ ডিসেম্বর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘পরিকল্পিত পরিবার, নিরাপদ মাতৃত্বের অঙ্গীকার’। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে। এ সেবা আরো বেগবান করতে মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। মা ও শিশুর সুরক্ষায় উঠান বৈঠক, কিশোর-কিশোরী সমাবেশ, কাউন্সেলিং, স্কুল, মসজিদ ও উপাসনালয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রসব বেদনার যন্ত্রণা নিজে ছাড়া কেউ বুঝে না। তাই সন্তান প্রসবকালীন সময়ে স্বামী তার স্ত্রীর পাশে থাকা বাঞ্ছনীয়। নারীকে কোনো ধরনের নির্যাতন নয়, তাদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। আমরা সুস্থ ও উন্নত জাতি চাই। এজন্য গর্ভবতী মা ও কিশোর-কিশোরীকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।
পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক বেগম সাহান ওয়াজের সভাপতিত্বে এবং পাঁচলাইশ থানা মেডিক্যাল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডা: নিগার সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আবু সালেহ মো: ফোরকান উদ্দিন, বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক মো: মাহফুজুল হক ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক লিকসন চৌধুরী। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেবা সপ্তাহের বিস্তারিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা: শামীমা হাসনাত।
বক্তব্য রাখেন সহকারী পরিচালক (পোর্ট ক্লিয়ারেন্স) মো: লোকমান হোসেন, আগ্রাবাদ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডা: কাউসার আক্তার পপি, কর্নেলহাট ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডা: ফাতেমা-তুজ জোহরা, ডবলমুরিং থানা মেডিক্যাল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডা: প্রিয়াঙ্কা, অসরকারি সংস্থা মমতার সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাশ। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাতৃমৃত্যু ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০-এ নামিয়ে আনা, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যু, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং অপূর্ণ চাহিদার হার শূন্য অর্জনে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবারের সেবা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘পরিকল্পিত পরিবার, নিরাপদ মাতৃত্বের অঙ্গীকার’।
তারা আরো বলেন, ১৮ বছরের আগে বিয়ে নয়, ২০ বছরের আগে সন্তান নয়।
কৈশোরে গর্ভধারণের ফলে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অপরিণত শিশু বা মৃত শিশুর জন্ম হওয়া, কম জন্ম ওজনের শিশুর জন্ম থেকে শুরু করে প্রসবকালে ও প্রসব পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেয়।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ কারো জন্য নিরাপদ নয়। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ প্রাতিষ্ঠানিক সেবার উপর জোর দিচ্ছে। বাল্যবিয়ে, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের কুফল ও করণীয় সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
অতিথিরা বলেন, সুস্থ ও উন্নত জাতি গঠনে বাল্যবিবাহ রোধ করে প্রত্যেক মা, সন্তান ও পরিবারকে সুস্থ রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রুগ্ন মা ও সন্তানরা উন্নত দেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারবে না, আমরা বাল্যবিবাহমুক্ত আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই।