নিরাপত্তাহীন পরিবেশে ভোট হলে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ভিপি নুরের
Printed Edition
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতা ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
নুরুল হক নুরের অভিযোগ, ওই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা একের পর এক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে দশমিনার আলিপুরা ইউনিয়নে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়েছে। এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি গলাচিপার আমখোলায় এক কর্মীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা পরিবারের সদস্যদের ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে নুর আরো জানান, গত দুই সপ্তাহে তার অন্তত ১৫-২০ জন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে এবং একাধিক নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি চরবিশ্বাসে এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পেছনেও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। নুর বলেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। (আজ) বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রশাসনের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করব; অন্যথায় জনগণকে নিয়ে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
নুর অভিযোগ করেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, নুরের দেয়া কিছু অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ফৌজদারি বিষয়গুলো পুলিশ দেখছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পটুয়াখালী-৩ আসনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।