ঘোড়াঘাটের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল
ধ্বংসস্তূপ তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
Printed Edition
আরিফুল ইসলাম জিমন ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) থেকে
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কারখানা’ দুই বছর না যেতেই কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একের পর এক চুরি ও লুটপাট হয়ে যাওয়ায় এখন প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন অবহেলা ও নজরদারির অভাবে কেন্দ্রটি এখন চোর ও লুটেরাদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে আনুমানিক প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কারখানাটি ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অচল অবস্থার খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম কারখানাটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে তার উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তী সময়ে তার বদলির পর প্রকল্পটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
এ সুযোগে দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কারখানাটি ধীরে ধীরে চোরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। রাতের আঁধারে সেলাই প্রশিক্ষণের মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যায়। বেতনভাতা বন্ধ থাকায় প্রশিক্ষকরা অন্যত্র চলে গেলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, গভীর নলকূপের সাব-মার্সিবল মোটর এবং কারখানার ভেতরে স্থাপিত দু’টি ট্রান্সফর্মারও চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব বড় ধরনের চুরির ঘটনাতেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বকুল, রফিকুল, পলাশ মার্ডি ও সুদীপ কুমারসহ অনেকেই জানান, ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের এই পরিণতি শুধু অবহেলার নয়, বরং দায় এড়ানোর সংস্কৃতির প্রতিফলন। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের সম্পদ চুরি হলেও এখনো দায় নির্ধারণ বা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
বর্তমানে কারখানাটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এ দিকে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মিজ রুবানা তানজিন জানান, তিনি সম্প্রতি ঘোড়াঘাটে যোগদান করেছেন এবং কারখানাটির বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নন। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর দ্রুত পরিদর্শনে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, চুরি হওয়া সম্পদের হিসাব নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্পটি পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।