ইরান-ইসরাইল সঙ্ঘাতে সতর্ক অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
Printed Edition
রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়াকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য কমিশনের ‘সিকিউরিটি কলেজ’ সম্প্রতি একটি বিশেষ বৈঠক করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে ইউরোপে যাতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে তারা সজাগ রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিকদের সরিয়ে নেয়া এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সদস্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ইইউ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা ইইউ প্রতিনিধিদের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে যাতায়াত বিঘিœত হওয়ার ঝুঁকিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন।
জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সাথে যুক্ত হয়ে একটি ‘এনার্জি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হবে। গত সপ্তাহান্তে ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের খবর আসার পর ইইউ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ওই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেয়া হবে না।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে ইইউ জানিয়েছে, তারা ইউরোপোল ও সদস্য দেশগুলোর সাথে মিলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এ ছাড়া সঙ্ঘাতের ফলে নতুন করে অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকে জাতিসঙ্ঘ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদার দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
তেহরানে গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত
বিবিসি ও আলজাজিরা জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধে ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। এমন সময়ে তেহরানের ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গোলেস্তান প্রাসাদ কাজার রাজবংশের সময় ইরানের রাজকীয় কমপ্লেক্স ছিল এবং পরে পাহলভি রাজবংশের সরকারি আসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইউনেসকো মনে করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষিত। বিশেষ করে ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন এবং ১৯৭২ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ কনভেনশন অনুযায়ী এসব স্থাপনা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে হামলার পর গোলেস্তান প্রাসাদে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।