জাপানের সাথে ইপিএতে সেবাখাতে বিনিয়োগ বাড়ার আশা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জাপানের সাথে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সেবাখাতে জাপানের মানসম্মত বিনিয়োগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানকে ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। বিপরীতে জাপান বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে জাপানের সাথে সই হওয়া ইপিএ চুক্তি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সেবাখাত উন্মুক্ত করেছে, আর বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৮টি সেবাখাত উন্মুক্ত করতে পেরেছে। আগে যেখানে মাত্র পাঁচতারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দু’টি খাত উন্মুক্ত ছিল, সেখানে এখন উল্লেখযোগ্য পরিসরে সেবাখাতের দরজা খুলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে জাপান থেকে ভালো মানের বিনিয়োগ আসবে।

তিনি বলেন, জাপানের সাথে এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই এক হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছে। জাপান বাংলাদেশকে মোট সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্যে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। বাংলাদেশও পর্যায়ক্রমে জাপানকে আরো কিছু পণ্যে প্রবেশাধিকার দেবে। এসব সুবিধা ৫-১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, যা চুক্তির ট্রেডিং অংশের অন্তর্ভুুক্ত।

গার্মেন্টস খাত প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশ বর্তমানে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে, ইপিএ কার্যকর হওয়ার পরও তা অব্যাহত থাকবে। একধাপ মূল্য সংযোজন করে কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি ও রফতানির সুযোগ আগের মতোই থাকবে।

তিনি আরো বলেন, উন্নত কোনো দেশের সাথে বাংলাদেশের এটি প্রথম ইপিএ এবং চুক্তিটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে সহজ শর্তে সুবিধা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাপানের বিনিয়োগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাহবুবুর রহমান জানান, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই চুক্তিটি উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা পাচ্ছে বলে তাৎক্ষণিক তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত হওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাজার প্রবেশাধিকারে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ চুক্তিতে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে বড় একটি আলোচনা দল কাজ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১৫০ জন একসাথে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। মোট ২১টি উপখাত নিয়ে দরকষাকষি হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, জাপান বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির একটি। এমন একটি অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি করতে পেরেছে, যেখানে ভারতকে একই ধরনের চুক্তি করতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লেগেছে। তিনি এটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি শুল্কচুক্তি সই হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ছাড়া নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশীদের কাছে ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে রমজানে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।