নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় দাড়ছিঁড়া নদী, খেয়া চলাচল বন্ধ
Printed Edition
রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
একসময় প্রমত্তা দাড়ছিঁড়া নদীর স্রোতের টানে নৌকা সামাল দিতে গিয়ে বৈঠা (দাড়) ভেঙে যেত। সেই ইতিহাস থেকেই নদীর নামকরণ করা হয়েছে ‘দাড়ছিঁড়া’। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত কার্যক্রম ও দীর্ঘ দিন খনন না হওয়ায় আজ সেই প্রমত্তা নদী পরিণত হয়েছে মরা খালে। নদীর নাব্যতা সঙ্কট এতটাই তীব্র যে ভাটার সময় এখন খেয়া নৌকাও চলাচল করতে পারছে না।
রাঙ্গাবালী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার এই দাড়ছিঁড়া নদী ছিল বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবী ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য যোগাযোগপথ। অথচ বর্তমানে নদীটি এতটাই ভরাট হয়ে গেছে যে যেখানে সেখানে নৌকা আটকে যায়। ভাটায় নদী প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় খেয়া চলাচল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরে যেতে হলে নদী পারাপারই একমাত্র উপায়। কিন্তু ভাটার সময় নদীর পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে যায় যে, জোয়ার না আসা পর্যন্ত পারাপারের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। জরুরি প্রয়োজনে রোগী, শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে গমন, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের অপেক্ষা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নিজাম হাওলাদার বলেন, জরুরি কাজে রাঙ্গাবালী যাচ্ছিলাম। দাড়ছিঁড়ার পাড়ে এসে দেখি নদী শুকিয়ে যাওয়ায় খেয়া বন্ধ। তিন-চার ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে জোয়ারের অপেক্ষায়। এভাবে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষদের।
মৌডুবী ইউনিয়নের সেলিম হাওলাদার বলেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের ইউনিয়নগুলো পুরোপুরি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নদী খননের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
তারা বলেন, দাড়ছিঁড়া নদী শুধু যোগাযোগের পথ নয়। বর্ষায় এই নদী পানি ধারণ করে আশপাশের কৃষিজমি প্লাবন থেকে রক্ষা করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি স্থানীয় মানুষের জমি সেচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। নদী খনন না হলে বর্ষায় প্লাবনের ঝুঁকি এবং শুকনো মৌসুমে চরম পানি সঙ্কট উভয়ই ভয়াবহভাবে বাড়বে। পাশাপাশি যাতায়াতে দীর্ঘ ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হবে।
এ অবস্থায় অবিলম্বে দাড়ছিঁড়া নদী খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তড়িৎ পদক্ষেপই পারে বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবীর হাজারো মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এ দু’টি ইউনিয়নকে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। তারা বলেন, দ্রুত খননই হতে পারে দাড়ছিঁড়া নদী বাঁচানোর একমাত্র উপায়।