ইরানে বাজারে সামরিক কপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ৪
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইরানে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ফল-শাকসবজির বাজারে বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দোরচেহ শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দোরচেহ শহরটি ইস্ফাহান প্রদেশে অবস্থিত, যা রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে। সামরিক কৌশলগত দিক থেকে ইস্ফাহান প্রদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইরানের কয়েকটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এ প্রদেশে অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এএফপি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ছিল, কিছুক্ষণ ওড়ার পর অনেকটা আকস্মিকভাবেই সেটি বাজারে আছড়ে পড়ে। পাইলট ও সহ-পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাদের সাথে নিহত হয়েছেন বাজারের যে স্থানে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন মানুষ। এ নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার বিধ্বস্ত হলো ইরানের কোনো সামরিক এয়ারক্রাফট। কয়েক দিন আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হামেদানে একটি বিমানবাহিনীর একটি এ-৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে বিমানটির চালক নিহত হয়েছিলেন।
সফল মিশন শেষে ফিরল ইরানের যুদ্ধজাহাজ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত মহাসাগরগামী যুদ্ধজাহাজ ‘শহীদ মাহদাভি’ প্রথম দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক মিশন সম্পন্ন করে আঞ্চলিক নৌসীমায় ফিরে এসেছে। ৫৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সমুদ্রযাত্রা শেষে সোমবার জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বিশ্বের মহাসাগরে উপস্থিত থাকতে প্রস্তুত। এই মিশনকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর এই বহুমুখী যুদ্ধজাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয়। এই অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের নৌ উপস্থিতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় অর্ধেক পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত এই দীর্ঘমেয়াদি মিশনে অংশ নিয়ে ‘শহীদ মাহদাভি’ আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সমুদ্রে পাঠানো অষ্টম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে জায়গা করে নিলো। জাহাজটি ইরানের ১০৩তম নৌবহরের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল অর্থাৎ প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই নৌবহরে ইরানি সেনাবাহিনীর ‘শহীদ নাকদি’ ডেস্ট্রয়ার এবং ‘মাকরান’ ফরোয়ার্ড বেস জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মিশনটির মধ্য দিয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ গোলার্ধে এবং একই সাথে আটলান্টিক মহাসাগরে নৌ অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করল। দুই হাজার ১০০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ মিটার। এটি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আইআরজিসির নৌবহরে যুক্ত হয়। জাহাজটি একটি ভাসমান নৌঘাঁটি হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম।
‘শহীদ মাহদাভিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। পাশাপাশি এটি বিপুল সংখ্যক নজরদারি ও আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন বহন করতে পারে। যুদ্ধজাহাজটিতে ত্রিমাত্রিক ফেজড অ্যারো রাডার, সমুদ্র থেকে সমুদ্র এবং সমুদ্র থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সংযুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া এই মহাসাগরগামী যুদ্ধজাহাজটি বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার, যুদ্ধ ড্রোন এবং দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বহনে সক্ষম।