এক দিকে গোলবন্যা অন্য দিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কোনো দিন পাঁচ ম্যাচ। কোনো দিন দুই থেকে তিন ম্যাচ। তড়িঘড়ি নারী ফুটবল লিগ শেষ করার জন্য বিকল্প কোনো উপায়ও নেই বাফুফের হাতে। তাই দিনে পাঁচ ম্যাচ। মার্চে নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব। এরপর এপ্রিলে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের ফাইনাল রাউন্ড। দুই আসরের জন্য জাতীয় দলকে প্রস্তুত করতেই এক মাসে লিগ শেষ করার শিডিউল। এতে কার্যত ঘন ঘন ম্যাচই খেলতে হচ্ছে আফঈদা, মারিয়া, মণিকা, ঋতুপর্ণাদের। এই ঘন ঘন ম্যাচের মধ্যে এক দিকে চলছে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্য দিকে গোল বন্যা। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব আগের ম্যাচে ২৩-০ গোলে হারিয়েছিল জামালপুরের কাচারীপাড়া একাদশকে। যা বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগে সবচেয়ে বেশি গোলে জয়ের রেকর্ড। সেই ফরাশগঞ্জ গতকাল ৯-০ গোলে জয় পেয়েছে সিরাজ স্মৃতির বিপক্ষে। কাল আরেক ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেড ১৮-০ গোলে হারের লজ্জা দিয়েছে কাচারীপাড়াকে। এর আগে পুলিশ ফুটবল ক্লাবের ১৫-০ গোলে জয় ছিল নাসরিন স্পোর্টস অ্যাকাডেমির বিপক্ষে। এমন কিছু ম্যাচ যেমন এক পেশে এবং গোল উৎসবের ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, তেমনি অন্য ম্যাচগুলো প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ হচ্ছে।
এবারের লিগে পুল প্রথা আছে। এই প্রথার বদৌলতে জাতীয় দলের তারকা এবং প্রতিষ্ঠিত ফুটবলাররা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে খেলছেন। এতে চার-পাঁচটি দল এবারের লিগ শিরোপার জন্য লড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী স্টারস এবং ফরাশগঞ্জের মধ্যেই হবে শিরোপার লড়াই। এর বাইরে বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশ আর্মিও চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো দল। আবার মাঝারি মানের দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচগুলো হচ্ছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাংলাদেশ আর্মি প্রথম ম্যাচে তীব্র লড়াই শেষে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশকে। আনসার ও ভিডিপি গোলশূন্য ড্র করেছে সিরাজ স্মৃতির সাথে। এই সিরাজ স্মৃতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে ঢাকা রেঞ্জার্স। শুদ্ধপুষ্কুরণী ৩-২ গোলে হারায় বাংলাদেশ আনসারকে।
এই লিগ একই সাথে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের মাধ্যমও। এরইমধ্যে শুদ্ধপুষ্কুরণীর হৈমন্তী শুক্লা ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। তাকে এ মাসের শেষে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের বাংলাদেশ দলে ডাকা হয়েছে। এমন আরো কিছু খেলোয়াড় পাওয়া যাবে এই লিগ থেকে। মিডফিল্ডার হৈমন্তী দারুণ দারুণ থ্রু পাসের জন্য কোচদের নজরে এসেছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ, আনসার, বাংলাদেশ আর্মি এবং বিকেএসপি এই দলগুলোতে জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড় আছে। ফরাশগঞ্জ এবং ঢাকা রেঞ্জার্সতো তারকার ঠাসা। তবে গত বছর লিগ শিরোপা জয়ী নাসরিন স্পোর্টস অ্যাকাডেমি এবার একেবারেই সাধারন মানের দল। বাজেট সঙ্কটে তারা ভালো দল গড়তেই পারেনি। যে কারণে তারা এত বাজেভাবে হারছে। কাচারীপাড়া, সিরাজ স্মৃতি এবং ঢাকা রেঞ্জার্সেরও একই দশা। সেই তুলনায় এগিয়ে রংপুরের শুদ্ধপুষ্কুরণী ক্লাব। তারা তাদের অ্যাকাডেমিতে তিন মাস ধরে ফুটবলারদের রেখে অনুশীলন করিয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলারদের এনে অনুশীলনে রেখেছে। যে দল গুলো এখন হালি হালি গোল খাচ্ছে সেই দলগুলোতেই আগামীর তারকা লুকিয়ে আছে। কয়েকজন তো এরই মধ্যে তাদের প্রতিভার জানান দিচ্ছেন।
গতকাল উন্নতি খাতুনের ডাবল হ্যাটট্রিক এবং সুলতানা ও তনিমা বিশ্বাসের হ্যাটট্রিকে আর্মি স্পোর্টস ক্লাব ১৮-০ গোলে হারিয়েছে কাচারীপাড়াকে। সুলতানা করেন চার গোল। এ ছাড়া অর্পিতা বিশ্বাস দু’টি, বৃষ্টি আক্তার দু’টি এবং হালিমা একটি গোল করেন। ছোট শামসুন্নাহার ও মারিয়া মাণ্ডার হ্যাটট্রিকে ফরাশগঞ্জ ৯-০ গোলে হারিয়েছে সিরাজ স্মৃতিকে। চার গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। মারিয়ার গোল তিনটি। একটি গোল পূজা, রানা ও শামসুন্নাহার সিনিয়রের।