আম-লিচুর মুকুলে রঙিন রাবির আঙিনা বসন্তের সুবাসে প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস

Printed Edition
bangla-2
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারিস রোডের পাশে মুকুলে ছেয়ে গেছে আম-লিচুর গাছ : নয়া দিগন্ত

রাবি প্রতিনিধি

ফাগুনের হাওয়া দোলা দিয়ে যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আঙিনায়। ঋতুরাজ বসন্তের পদধ্বনি এখন কেবল বাতাসেই নয়, ধরা দিচ্ছে ক্যাম্পাসের আম ও লিচু গাছের ডালে ডালে। হলুদাভ মুকুলের এমন বাহার আর ম ম ঘ্রাণে যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়েছে রাবির পুরো ক্যাম্পাস। মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান, পরিবহন চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, শহীদ মিনার, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ, বধ্যভূমি এবং বিভিন্ন আবাসিক হলের আঙিনা- সব জায়গাতেই আম গাছের ডাল ছেয়ে আছে মুকুলে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হলুদের এই উপস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই বরণ করে নিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তকে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আম-লিচুর মুকুলের সৌরভে ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়ান পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ধরে রাখেন মুহূর্তগুলোকে। ডালে ডালে পাখির কিচিরমিচির আর মৌমাছির গুঞ্জন ক্যাম্পাসে প্রশান্তির ছোঁয়া বুলিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রতি বছরের তুলনা এবার আম-লিচুর মুকুল বেশি চোখে পড়ছে। এই মুকুল যেন অধিক ফলনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ক্যাম্পাসে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসসুম সাবা বলেন, ক্যাম্পাসে হাঁটলেই আমের মুকুলের গন্ধ মনকে দোলা দিয়ে যায়। মনে হয় এই সময়টা যদি একটু ধীর গতিতে চলতো। ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতি এই একটু ছোঁয়া গায়ে শিহরণ জাগায়। বসন্ত শুধু প্রকৃতির রূপান্তরই নয়, যেন অন্তরেরও এক সূক্ষ্ম নবায়নের বার্তা এনে দেয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তারের কাছেও ক্যাম্পাসে আম-লিচুর মুকুল ব্যতিক্রম শিহরণ জাগিয়ে তুলে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে কাটাই বলে প্রতি বছর মুকুল ফোটার এই দৃশ্য কাছ থেকে দেখি। হলুদাভ মুকুলে ভরে ওঠা গাছগুলো বসন্তকে আরো স্পষ্ট করে ফুটে ওঠে। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর চারপাশের সজীবতা মনে অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণ তো আছেই, এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল নষ্ট হয়নি। এ ছাড়া একটি প্রাকৃতিক বিষয় হলো, আম গাছ এক বছর ফল দেয়, আরেক বছর পুষ্টি সঞ্চয় করে। যদি কোনো গাছ প্রতি বছর ফল দেয়, তবে তার শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়; ফল না দিলেও গাছের শাখা-প্রশাখার বিকাশ থেমে থাকে না।

এগ্রোনোমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, আমের মুকুল ও ফলন আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। বসন্তকালে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে এবং কুয়াশা কম থাকলে মুকুল ভালো হয়। তিনি বলেন, বিগত দুই বছরে আমের ফলন তুলনামূলক কম ছিল। এ কারণে এ বছর ভালো মুকুল এসেছে। ফলনও এ বছর ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে, গাছের ভালো পরিচর্যা করলে প্রতি বছরই ভালো ফলন দেয়।

তিনি আরো বলেন, গত দুই বছরে শীতকালে তাপমাত্রা খুব একটা কমেনি। সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নামলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কম হয়। এ ছাড়া, গত দুই বছর ফলন কম থাকায় গাছগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি সঞ্চয় করতে পেরেছে, যা এ বছর ভালো ফুল ও ফল ধারণে সহায়তা করবে।