জয়ে বাংলাদেশ সমতায় ফিরল

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition

সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় টি-২০তে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। ব্যাট হাতে লিটন দাস ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়েছিলেন ঠিকই। এরপর বাকি কাজটা করেন বোলাররা। বিশেষ করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলামরা লঙ্কান ব্যাটারদের দাঁড়াতেই দেননি। দু’জন মাত্র দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন। বাকিরা সবাই এক ডিজিটে আউট হয়েছেন। সময় মতো ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে বড় জয় পেতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। বাংলাদেশের দেয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা অল আউট হয়ে গেছে ৯৪ রানেই। তাতে ২৮ বল বাকি থাকতেই ৮৩ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে টাইগাররা। ফলে আগামী ১৬ জুলাইয়ের ম্যাচটি হয়ে থাকল সিরিজ নির্ধারণীর।

শামীম পাটোয়ারির ডিরেক্ট থ্রুতে আউট হয়ে ফিরেছেন ৫ বলে ৮ রান করা কুশল মেন্ডিস। ফলে দলীয় ১৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে পয়েন্টে কাট করেছিলেন মেন্ডিস। তবে সার্কেলের মধ্যে ফিল্ডিং করা শামীম বল ছুড়ে মারেন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। বল আঘাত হানে স্টাম্পে। পরের ওভারে কুশল পেরেরা শূন্য রানে শরিফুল ইসলামের বলে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। চিকি শট খেলতে গিয়ে কাভার পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কান এই ব্যাটার। পরের ওভারে শরিফুল আউট করেন আভিস্কা ফার্নান্দোকে (২)। শরিফুলের ফুলার লেন্থ বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে শামীমের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে চতুর্থ আঘাত হানেন সাইফউদ্দিন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন চারিথ আসালাঙ্কা (৫)। শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে লঙ্কান এই ব্যাটারকে আউট করে বাংলাদেশ।

দারুণ এক জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা ও দাসুন শানাকা। নিশাঙ্কাকে ব্যক্তিগত ৩২ রানে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন রিশাদ। ফলে ভাঙে তাদের ৪১ রানের জুটি। সেই ওভারেই শূন্য রানে চামিকা করুনারতেœকে আউট করেন এই লেগ স্পিনার। রিশাদের বলে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন চামিকা। লিডিং এজ হয়ে সোজা বল চলে যায় বোলারের হাতে। মিরাজ আউট করেছেন দাসুন শানাকাকে (২০)। পরের ওভারে সাইফউদ্দিন আউট করেন জেফরি ভ্যান্ডারসেকে (৮)। সাইফউদ্দিনের বলে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন স্কর্ট ফাইন লেগে মোস্তাফিজুর রহমানকে। এরপর ৬ রানে থিকসানাকে ফেরান কাটার মাস্টার এবং বিনুরা ফার্নান্দোকেও ৬ রানে ফিরিয়ে তিন উইকেট পূর্ণ করেন রিশাদ হোসেন। তাতে ১৫.২ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

এর আগে শ্রীলঙ্কা টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ায় শুরুতে ব্যাট করেছে টাইগাররা। একাদশে তিন পেসার, দুই স্পিনার রেখেছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব এবং নাঈম শেখ বাদ পড়েছেন। একাদশে ঢুকেছেন জাকের আলী অনিক, শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কা দলে কোনো পরিবর্তন ছিল না।

৩ বল খেলে নুয়ান থুসারার বলে বোল্ড হয়ে আউট হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। বাংলাদেশের এই ওপেনার রানের খাতাই খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ হারায় আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট (৫)। দুই ওপেনারকে হারানোর পর হাল ধরেন অধিনায়ক লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়। বিনুরা ফার্নান্দো হৃদয়কে ব্যক্তিগত ৩১ রানে কুশল পেরেরার হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তাতেই লিটনের সাথে তার ৬৯ রানের জুটি ভাঙে। মিরাজ একই ওভারের চতুর্থ বলে আউট সাইড এজে থুসারাকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মাত্র ১ রান করে।

লিটন দাসের টানা ব্যর্থতা অজানা নয়। সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে লিটন নিজেও সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিন সংস্করণ মিলিয়ে নিজের সবশেষ ৩১ ইনিংসে শুধু একবার ফিফটি করতে পেরেছেন। ১৪ ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম ওয়ানডেতে ০ রানে আউট হলে পরে একাদশ থেকেও বাদ পড়েন। প্রথম ম্যাচে ১১ বলে ৬ রান করে আউট হন। সব জল্পনা কল্পনার দেয়াল ভেঙে অবশেষে এক বছর ও ১৩ ইনিংস পর পেলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। ৩৯ বলে তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। মাহিশ থিকশানার করা ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে দলীয় ১৫৫ রানে লিটন ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন। এই ঝড়ো ইনিংসের পথে ৫টি ছক্কা ও একটি চার মারেন লিটন।

১৯.৩ ওভারে মেন্ডিস জোড়া রান আউট করেন জাকের আলী (৩) ও শামীম পাটোয়ারিকে (৪৮)। ২৭ বলে ৫ চার ও দুই ছক্কায় ওই রান করেন শামীম। ২ রানের জন্য পেলেন না হাফসেঞ্চুরি। পরে রিশাদ (০*) ও সাইফউদ্দিন ৬ রানে অপরাজিত থেকে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানে নিজেদের ইনিংস শেষ করেন। বিনুরা তিনটি, থুসারা ও থিকসানা একটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত ইনিংস :

বাংলাদেশ : ১৭৭/৭ (তানজিদ ৫, ইমন ০, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩১, মিরাজ ১, শামীম ৪৮, জাকের ৩, রিশাদ ০*, সাইফউদ্দিন ৬*, বিনুরা ফার্নান্দে ৩/৩১, থুসারা ১/৩০, থিকসানা ১/৩০)।

শ্রীলঙ্কা : ১৫.২ ওভারে ৯৪ (নিশাঙ্কা ৩২, শানাকা ২০, রিশাদ ৩/১৮, শরিফুল ২/১২, সাইফউদ্দিন ২/২১, মোস্তাফিজ ১/১৪, মিরাজ ১/২৬)।

ফল : বাংলাদেশ ৮৩ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : লিটন দাস।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতা।