আফগানিস্তান ও পাকিস্তান কেন যুদ্ধ করছে?

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এখন ‘প্রকাশ্য যুদ্ধে’ লিপ্ত

Printed Edition

আলজাজিরা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার ভোরে পরিচালিত এই হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে এখন ওপেন ওয়ার বা ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ চলছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং তালেবান প্রশাসনের সাথে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান তিক্ততার এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ।

হামলার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের কাবুল, দক্ষিণ-পূর্বের পাক্তিয়া এবং দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশে সিরিজ হামলা চালায়। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, আফগান বাহিনী প্রথমে সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে আক্রমণ করার পর তারা এই পাল্টা জবাব দিয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ‘আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে দুই দেশের তথ্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে।

কেন লড়ছে এই দুই প্রতিবেশী?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই বিরোধের শিকড় বেশ গভীর। মূলত তিনটি প্রধান কারণে এই সঙ্ঘাত চরম রূপ নিয়েছে :

ডুরান্ড লাইন বিতর্ক : আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। ব্রিটিশ আমলের এই সীমানা আফগানিস্তান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, এই রেখাটি জাতিগত পশতুন এলাকাকে অন্যায়ভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সীমান্তে বেড়া দেয়া নিয়ে অন্তত ৭৫ বার দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

টিটিপি ও নিরাপত্তা শঙ্কা : পাকিস্তানের মূল অভিযোগ হলো, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপি আফগান তালেবানের আদর্শিক মিত্র এবং তারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই করছে। পাকিস্তান চায় তালেবান যেন এই গোষ্ঠীটিকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু তালেবান এতে অনিচ্ছুক।

কৌশলগত দ্বন্দ্ব : বিশ্লেষকদের মতে, আফগান তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়। কারণ তারা মনে করে, টিটিপি যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইএসকেতে যোগ দিতে পারে। এই আস্থার অভাব দুই দেশের সম্পর্ককে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।

সামরিক শক্তির অসমতা

সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী বিমান বাহিনী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। অন্য দিকে আফগান তালেবানের কোনো কার্যকরী বিমানবাহিনী নেই।

এ কারণে তারা গেরিলা যুদ্ধ বা আত্মঘাতী ড্রোন হামলার মতো ‘অপ্রথাগত’ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ আফগানিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হবে।