ইউক্রেনের তরুণ ক্রীড়াবিদদের অদম্য লড়াই

Printed Edition
khela-3
অলিম্পিক রিজার্ভ টেইনিং স্কুলের সামনে অনুশীলন করছেনুু ইউক্রেনের অ্যাথলেটরা : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনেও থেমে নেই অলিম্পিকের স্বপ্ন। উত্তর ইউক্রেনের একটি ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত তরুণ ক্রীড়াবিদ। চেরনিহিভ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত সরকার পরিচালিত স্পোর্টস স্কি বেস অব দ্য অলিম্পিক রিজার্ভ কেন্দ্রটিতে প্রায় ৩৫০ শিশু ও কিশোর ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং ও বায়াথলনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ড্রোনের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণের মধ্যেই চলে তাদের অনুশীলন। অনেক সময় সাইরেন বাজলে স্কি খুলে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যেতে হয় সবাইকে।

৬৭ বছর বয়সী কোচ মাইকোলা ভোরচাক বলেন, ‘আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, অনেক সময় শিশুরাও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। যুদ্ধ তাদের মানসিকভাবে বদলে দিয়েছে।’

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনে এই ক্রীড়া কেন্দ্রের একাধিক ভবন ধ্বংস হয়েছে, পুড়ে যায় ডরমিটরি। তবু সীমিত পরিসরে অনুশীলন চালু রয়েছে। শীতকালে তুষারঢাকা ট্র্যাকে, আর অন্য সময় বিস্ফোরণের দাগে ভরা পিচঢালা রাস্তায় রোলার স্কিতে অনুশীলন করে ক্রীড়াবিদরা।

এই কেন্দ্র থেকেই উঠে এসেছিলেন ইউক্রেনের প্রথম অলিম্পিক পদক জয়ী ভ্যালেন্তিনা তেসরবে-নেসিনা। ১৯৯৪ সালের লিলিহ্যামার শীতকালীন অলিম্পিকে তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০২২ সালে কেন্দ্রটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। ভাঙা কক্ষ, পুড়ে যাওয়া ট্রফি তার স্মৃতিকে নাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে ইউক্রেনের ক্রীড়াবিদদের অনেকেই বিদেশে অনুশীলন করলেও এই কেন্দ্রটি প্রতিরোধ ও প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২৬ বছর বয়সী বায়াথলেট খ্রিস্টিনা দমিত্রেঙ্কো, যিনি আসন্ন মিলান-কর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই ইউক্রেন শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও অদম্য।’

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সীমিত সংখ্যক রুশ ক্রীড়াবিদ নিরপেক্ষ পতাকার নিচে অংশ নিতে পারবেন। ফলে কিছু ইভেন্টে ইউক্রেন ও রাশিয়ার ক্রীড়াবিদদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সাবেক অলিম্পিয়ান নিনা লেমেশ বলেন, ‘এই শিশুরাই ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ অলিম্পিয়ান। যুদ্ধের মাঝেও তারা এখানেই আছে, থাকবে।