মুন্সীগঞ্জে সরকারি জমির রাস্তা নিয়ে ফের বিতর্ক
হাইকোর্টের রায়ের পরও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রুবেল গংয়ের বিরুদ্ধে
Printed Edition
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের ষোলঘর এলাকায় ব্রিটিশ আমল থেকে চালু থাকা একটি জনসাধারণের রাস্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সরকারি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাস্তা নির্মাণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলচ্যুত একটি চক্র রাস্তা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই ষোলঘর বাজার থেকে কুমারবাড়ির ওপর দিয়ে ভুঁইয়াপাড়া হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তা চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ওই জায়গার আসল হিন্দু মালিকরা ভারতে চলে গেলে জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে রুবেল গংয়ের পূর্ববর্তীরা জাল দলিল তৈরি করে জমিটি দখলে নেয়।
২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে হাবিবুর রহমানের (রুবেল গংয়ের পূর্ববর্তী) আপোষের ভিত্তিতে সেখানে ১৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় ইট বিছানো হয়। তবে সেনা সমর্থিত সরকারের সময় ২০০৭ সালে হাবিবুর রহমান আবারও প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার জায়গা দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে জেলা প্রশাসক বাদী হয়ে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সিএস রেকর্ডীয় মালিকরা দেশভাগের সময় ভারতে চলে যাওয়ায় ২৪ শতাংশ জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত হবে এবং পরবর্তীতে করা দলিলগুলো বাতিল হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন জিপি কার্যালয়ের অসহযোগিতা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাবের কারণে সরকার ওই মামলায় পরাজিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রোপটে জেলা প্রশাসন হাইকোর্টে আপিল করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দিয়ে রুবেল গংদের ১২ শতাংশ জমির স্বত্ব বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে বাকি ১২ শতাংশ জমির দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেন।
এর ফলে রুবেল গংয়ের দখলে থাকা ১২ শতাংশ জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয় এবং জেলা প্রশাসন জমির দখল বুঝে নেয়। পরে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রুবেল ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। ওই সময় সাধারণ মানুষের জমি দখলসহ নানা দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর রুবেল দল পরিবর্তন করে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সখ্যতা আছে বলে প্রচার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।