মামলা প্রত্যাহারের জন্য ধানের শীষে ভোট দেয়ার প্রলোভন প্রতারণা : নাহিদ ইসলাম

Printed Edition

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম- আইনের শাসন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিচার করা হবে। যারা অপরাধী, ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার সাথে যুক্ত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে যারা অপরাধের সাথে যুক্ত নয়, তাদের সাথে কোনো অবিচার করা হবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি, একটি দল সারা দেশে নির্বিচারে মামলা দিয়ে মামলা বাণিজ্য করেছে। এখন ভোটের সময় ঘনিয়ে এলে তারা বলছে, ধানের শীষে ভোট দিলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এটা একটি স্পষ্ট প্রতারণা।’

গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, একটি দল একসময় ৩১ দফা সংস্কারের কথা বলেছিল, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিল যখন ফ্যাসিস্টবাদী আমল ছিল। যখন সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তখন তারা ৩১ দফার সাথেও প্রতারণা করেছে। এখন আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব মিথ্যা আশ^াসে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।’

তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে সারা দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চত করতে কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইটি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় আইটি সেন্টার, স্কিল ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে।

নাহিদ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ভোট ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। ১১ দলীয় জোটের প্রাথীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। শেরপুরে আমাদের শরিক দল জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালটে সিল মারার পরিকল্পনা করছে, কারণ তারা বুঝতে পারছে জনগণ ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে। এই জনজোয়ার ঠেকাতে তারা আতঙ্ক ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন জায়গায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সিলেট বিভাগে যোগ্য মেধাবী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জোট ও দেশের স্বার্থে আমরা ছাড় দিয়েছি এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাশকে মনোনয়ন দিয়েছি। তিনি এই এলাকার সন্তান, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবীতে আন্দোলন করেছেন, জেলও কেটেছেন। আমরা বিশ^াস করি সুন্নি, আলেম, হিন্দু, মুসলমান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী ও আদিবাসীসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যজোট বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে গঠিত হয়েছে। কোনো আসন যেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের হাতে না যায়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া বলেন, ‘আপনারা যদি প্রীতম দাশকে নির্বাচিত করেন এবং আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আরও শক্তিভাবে কাজ করতে পারবে। চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। দীর্ঘদিনের পৌরসভা বর্ধিত করার দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা কাজ করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, একটি দল তত বেশি সহিংস হয়ে উঠছে। তারা আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে হামলা-মামলা, সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-বাংলার মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য এবার ঐক্যবদ্ধ, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর মেনে নেয়া হবে না। এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আমরা বিশ^াস করি, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানাবে।

এ সময় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাপলা কলির প্রার্থী প্রীতম দাশ, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার জুনেদ আহমেদ, মনিরা শারমিন, এহতেশামুল হক, অ্যাড. তারিকুল ইসলাম, ফয়সল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমান প্রমুখ। সমাবেশ শেষ শহরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি পথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।