দেবীগঞ্জে সরকারি কার্যালয়ে উঠানো হয়নি জাতীয় পতাকা
Printed Edition
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা
মহান বিজয় দিবসে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। দিবসটির গুরুত্ব উপেক্ষা করে একাধিক সরকারি স্থাপনায় নির্ধারিত সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিন দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, দেবীগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলো এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি স্থাপনায় আলোকসজ্জার কথা থাকলেও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে কোনো ধরনের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অর্জনের এই দিনে সরকারি কার্যালয়ে যথাসময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সরাফত আলী বলেন, একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকটি বাসা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা অপরিহার্য। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানেই এই দায়িত্ব পালিত হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই- যেসব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।
যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক সরকারি অফিসে পতাকা উত্তোলনই করা হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক এবং অবহেলার শামিল।
এ দিকে বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার কারণ জানতে দেবীগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা না করায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- এ বিষয়ে জানতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসানের সরকারি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।