সিইসির সাথে বৈঠক শেষে জামায়াত

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি

Printed Edition
first-1
নির্বাচন কমিশনের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বৈঠক করেন : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের এখনই গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, একটি দল আরেকটি দলকে হামলা করছে। এমনকি ভোটের প্রচার-প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণা নিয়ে ইসির স্পষ্ট সিদ্ধান্ত কী তা জানতে এসেছিলাম। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে কথা হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাকক্ষে গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ছয় সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কথা হয়েছে। প্রবাসীদের ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল করে ফেলা হয়েছে। সিসি টিভি ব্যবহার আমাদের জোর দাবি। তারা বিশাল ব্যয়ের কথা বলেছেন। কিন্তু একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জন্য টাকার অঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা প্রচারে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। তফসিল হলে এগুলো কী করে নিয়ন্ত্রণ করবে ইসি এসব নিয়েও কথা হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কমিশন সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এমন কথা দিয়েছে। তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কোনো আশঙ্কা করছি না, তারা যে কথা দিয়েছেন, আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাই।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার মাঝে মাঝে গুরুতর অবনতি দেখা যাচ্ছে। একটা দলের সভার ওপর আরেক দলের হামলা, এমনকি নারীও গণসংযোগে নেমে হামলার শিকার হচ্ছেন। এসব পরিস্থিতি নিয়ে এবং তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, কী ধরনের আশঙ্কা আছে, কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন? এসব বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।

ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য একটা অন্যতম ইস্যু। ইসি বলছে, এটা ব্যয়বহুল। আমরা বলেছি, সরকারের প্রচুর অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়। তিনি বলেন, আমরা আরো বলেছি, জাতীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।

এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি ইসি। কোনো কর্মকর্তা নগ্নভাবে অনিয়ম করলে আমরা তুলে ধরব, তারা বলেছে ব্যবস্থা নেবে।

ইসি বেসরকারি ব্যাংক থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ কেউ নানান ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে যে কথা বলেছেন। কোনো দলের কোনো ব্যাংক হয় না। দলের মালিকানায় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকে না। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আছে এ ধরনের কোনো কর্মকর্তা যে নিয়োগ দেবেন না, ইসি এই কথা দিয়েছেন।